ধর্নায় বসতে চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন, নির্বাচনে ভরাডুবির পরে প্রথম বার পথে নামতে চলেছেন মমতা
নির্বাচনে ভরাডুবির পরে প্রথম বার পথে নামতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর জন্য ‘ভোট পরবর্তী হিংসা’-কে হাতিয়ার করেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে অবস্থান বিক্ষোভের অনুমতিও চেয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২ জুন রানি রাসমণি অ্যাভেনিউতে অবস্থান বিক্ষোভে বসতে পারেন তিনি।
ভোটের ফল প্রকাশের পরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলকর্মী খুন, পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা। শুধু তাই নয়, আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে নিজেই সওয়াল করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টে। সেই নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্য। তবে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চ কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে রাজি হননি। আদালতের বক্তব্য, ভোট পরবর্তী হিংসায় কারও দোকান বা বাড়ি ভাঙচুর, কাউকে বাড়ি ছাড়া করা অথবা মারধর করলে দল না–দেখে পদক্ষেপ করতে হবে পুলিশকে।
এ বার সরাসরি পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা। সূত্রের খবর, ভোট পরবর্তী হিংসা, তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপরে হামলা-সহ একাধিক অভিযোগে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বসতে চলেছেন তিনি। সেই জন্য আগামী ২ জুন রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে দিনভর অবস্থান বিক্ষোভ করার কথা ভেবেছে তৃণমূল। সেখানেই থাকবেন মমতা নিজে। এই কর্মসূচির জন্যই পুলিশের অনুমতি চেয়েছেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত পুলিশের অনুমতি মেলেনি বলেই জানা গিয়েছে।
ভোটে ভরাডুবির জন্য নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল তুলেছিলেন মমতা। বিজেপি ‘ভোট লুট’ করেছে বলে সরাসরি তোপ দেগেছিলেন তিনি। তবে ফল প্রকাশের পরে থেকে দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন তৃণমূলের অনেক নেতা-নেত্রীই। একাধিক কাউন্সিলার ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন। দলকে এককাট্টা রাখতে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে বৈঠক করেছেন মমতা। তাঁদের পথে নামার পরামর্শও দিয়েছেন। এ বার অবস্থানে নামতে চলেছেন তিনি নিজেই। পুলিশ অনুমতি দিলে, বিরোধী নেত্রী হিসেবে এটাই হবে মমতার প্রথম কর্মসূচি।