গা ভিজিয়ে ‘সানস্ক্রিন’ মাখছে হাতি! জলে ডুবে স্বস্তির খোঁজে রয়্যাল বেঙ্গল
পারদ ছুঁয়েছে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ বৃহস্পতিবারের বারবেলায় চাঁদি ফাটা রোদে চারপাশ যেন ঝলসে যাচ্ছে৷ ইদের ছুটির দুপুরে রাজধানীর রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য৷ জরুরি কাজের প্রয়োজনে যাঁরা বাইরে বেরোতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁরাও লু থেকে বাঁচতে চোখ-মুখ ঢেকে রেখেছেন৷ এই অসহনীয় তাপপ্রবাহের মধ্যে রাজধানীর চিড়িয়াখানার থাকা পশুপাখির হাল কেমন? জানতেই ঢুকেছিলাম মথুরা রোডের দিল্লি জ়ু-তে ৷
মেন গেট পেরিয়ে ঢোকার পরেই যে দৃশ্য চোখে পড়ল, তা অবাক করার মতো৷ বিরাট ফাঁকা মাঠে, প্রচন্ড রোদের মধ্যেই এক বিশালাকার হাতিকে স্নান করানো হচ্ছে লম্বা পাইপের জল দিয়ে৷ মাথায় প্রবল রোদের তাপ নিয়ে শুঁড় উঁচিয়ে ‘গজরাজ’ দিব্যি শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে৷ তার কেয়ারটেকার জল ঢেলেই যাচ্ছেন৷ একমনে গা ভেজাতে ব্যস্ত গজরাজ৷ একটু দূরে দেখা যাচ্ছে স্তূপাকার বালি এবং মাটির একটা ঢিবি মতো ৷
এই ঢিবিগুলো কেন? প্রশ্ন শুনে হেসে উঠলেন দিল্লি চিড়িয়াখানার ‘কিপার’ রমেশ চাঁদ৷ বললেন, ‘লম্বা স্নানের পরে এই মাটি আর বালির ঢিবিতে গড়াগড়ি খাবে হাতি৷ সারা গায়ে মাখবে এই মাটি আর বালি৷ এটাই ওদের সানস্ক্রিন লোশন! এই মাটি আর বালি হাতির শরীরকে ঠান্ডা রাখে৷ কয়েক ঘণ্টা পরে আবার হাতিকে স্নান করাতে হবে৷ তার পরে সন্ধে নামলে নিজের আস্তানায় ঢুকবে৷’
সাধারণ মানুষ গরমের হাত থেকে বাঁচতে ঠিক যে ভাবে নিজেদের পরিচর্যায় ব্য়স্ত, সে ভাবেই দিল্লি চিড়িয়াখানায় হাতির যত্ন করা হচ্ছে বলে জানালেন রমেশ চাঁদ৷ হাতির প্রতিদিনের ডায়েটে থাকছে বেশিরভাগ ফল-ফলাদি ৷