ক্ষমতার অন্ধকারে ন্যায়ের লড়াই, আর জমজমাট এক কোর্টরুম থ্রিলার
কোর্টরুম ড্রামা বরাবরই দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়। আদালতের টানটান উত্তেজনা, সত্যি-মিথ্যার লড়াই এবং ক্ষমতার রাজনীতির মিশেলে তৈরি গল্প সহজেই দর্শককে টেনে রাখে। পরিচালক অশ্বিনী আইয়ার তিওয়ারির নতুন ছবি ‘সিস্টেম’ সেই পরিচিত ঘরানার মধ্যেও আলাদা হয়ে ওঠে তার বাস্তবধর্মী নির্মাণ, শক্তিশালী অভিনয় এবং সমাজব্যবস্থার অন্ধকার দিক তুলে ধরার জন্য।
ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে দুই নারীকে ঘিরে। একদিকে প্রভাবশালী পাবলিক প্রসিকিউটর নেহা রাজবংশ (সোনাক্ষী সিনহা), অন্য দিকে আদালতের সাধারণ কর্মী সারিকা রাওয়াত (জ্যোতিকা)। সমাজের দুই ভিন্ন স্তরে থাকা এই দুই নারী একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার মাধ্যমে একে অন্যের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
মামলার তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্নীতি এবং বিচারব্যবস্থার ভিতরে লুকিয়ে থাকা ক্ষমতার খেলা। ছবির মূল সম্পদ এর চিত্রনাট্য। গল্প ধীরে ধীরে এগোলেও কোথাও বিরক্তি আসে না। বরং প্রতিটি দৃশ্য পরের ঘটনার জন্য কৌতূহল বাড়িয়ে তোলে। আদালতের দৃশ্যগুলো বাস্তবসম্মত এবং সংলাপ নির্ভর। বিশেষ করে একের পর এক ট্যুইস্ট দর্শককে চমকে দেয়।
সোনাক্ষী সিনহা এই ছবিতে নিজের অন্যতম সেরা অভিনয় করেছেন। আত্মবিশ্বাসী এবং দৃঢ়চেতা আইনজীবীর চরিত্রে তিনি যথেষ্ট সাবলীল। তবে ছবির আসল চমক জ্যোতিকা। তাঁর সংযত অভিনয়, চোখের ভাষা এবং আবেগ প্রকাশের ক্ষমতা চরিত্রটিকে গভীরতা দিয়েছে। দুই অভিনেত্রীর রসায়ন চোখে পড়ার মতো। আশুতোষ গোয়ারিকর বরাবরের মতোই পরিণত অভিনয় করেছেন। বিজয়ন্ত কোহলি এবং সায়নদীপ সেনগুপ্তও পার্শ্বচরিত্রে যথাযথ অভিনয় করেছেন।
পরিচালক অশ্বিনী আইয়ার তিওয়ারি বরাবরই সম্পর্ক এবং সমাজের বাস্তব ছবি তুলে ধরতে দক্ষ। তাঁর পরিচালনায় ছবির আবেগ এবং থ্রিল, দুই-ই সমান ভাবে কাজ করেছে। চিত্রগ্রহণ এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজ়িক ছবির আবহকে আরও জোরালো করেছে। আদালতের অন্ধকার করিডর, রাজনৈতিক বৈঠক কিংবা ক্লাইম্যাক্সের দৃশ্য, প্রতিটি ফ্রেমে উত্তেজনা অনুভূত হয়। তবে প্রথমার্ধের কিছু দৃশ্য খানিক দীর্ঘ মনে হতে পারে। কয়েকটি সাবপ্লট আরও বিস্তারিত ভাবে দেখানো গেলে গল্প আরও দ্রুত এগোতে পারত। এ ছাড়াও ছবির সংলাপ বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।
বেশ কিছু দৃশ্যে সংলাপ সরাসরি বর্তমান সমাজব্যবস্থা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকে আঘাত করে। সেই কারণেই ‘সিস্টেম’ শুধুমাত্র বিনোদনের জায়গায় আটকে থাকে না, বরং দর্শককে ভাবতেও বাধ্য করে। বিশেষ করে নারীকেন্দ্রিক চরিত্রগুলিকে যে রকম দৃঢ় ভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা ছবির অন্যতম বড় সাফল্য। ক্লাইম্যাক্সে আবেগ এবং উত্তেজনার মিশেল দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। বাণিজ্যিক বিনোদনের পাশাপাশি সামাজিক বার্তা দিতে সক্ষম এই ছবি নিঃসন্দেহে চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত কোর্টরুম ড্রামা হয়ে উঠতে পারে।
‘সিস্টেম’ শুধুমাত্র কোর্টরুম থ্রিলার নয়, বরং সমাজ এবং বিচারব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে ধরা একটি সময়োপযোগী ছবি। যাঁরা থ্রিলারের সঙ্গে সামাজিক বার্তাও খোঁজেন, তাঁদের জন্য ‘সিস্টেম’ মাস্ট ওয়াচ।