১৫ লাখ নিয়েও শুটিংয়ে নেই! অভিযুক্ত সোহম, পাল্টা হুমকির দাবি অভিনেতার
এই সময়, বালুরঘাট: ফের বিতর্কে জড়ালেন অভিনেতা এবং প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী। এ বার তাঁর বিরুদ্ধে টাকা নিয়েও সিনেমায় অভিনয় না–করায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হলো বালুরঘাট থানায়। ২০২৩–এর সেপ্টেম্বরে ডুয়ার্সের ধূপঝোড়ায় ছবির শুটিংয়ে এসে একটি অজগরের উপরে অত্যাচার চালানোর অভিযোগ ওঠে সোহম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। জলপাইগুড়ির একটি পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের তরফে প্রশাসনের কাছে ডেপুটেশন দিয়ে এর তদন্ত দাবি করা হয়েছিল। ঘটনার প্রায় তিন বছর কেটে গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্যও নেই। এরই মাঝে এ বার সোহমের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন বালুরঘাটের মঙ্গলপুর এলাকার বাসিন্দা, চলচ্চিত্র প্রযোজক তরুণ দাস। যদিও বুধবার সোহম কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে ওই প্রযোজকের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। আইনের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত আট বছর আগে। তরুণ জানান, ২০১৮–তে একটি কমার্শিয়াল বাংলা ছবি বানানোর পরিকল্পনা করেন তিনি। সেই মোতাবেক ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি যোগাযোগ করেন সোহমের সঙ্গে। তরুণের দাবি, প্রাথমিক কথাবার্তার পরে সোহম ছবিটি করতে রাজি হন। অভিনেতাকে অগ্রিম সাম্মানিক বাবদ ১৫ লক্ষ টাকাও দেন তরুণ। তাঁর অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পরে দ্রুত ছবির কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বারবার শুটিংয়ের দিন পিছিয়ে দিতে থাকেন অভিনেতা। কখনও ব্যস্ততা, কখনও কাজের ‘অজুহাতে’ দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ‘ঝুলিয়ে’ রাখা হয় বলে দাবি। এ ভাবেই কেটে যায় দু’বছর। শেষমেশ ২০২০–তে তিনি বুঝতে পারেন, ছবির কাজ আর এগোবে না। ওই সময়ে প্রযোজকের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তিনি সোহমের কাছে সেই টাকা ফেরত চান। এরপরেই শুরু সমস্যা।
তরুণের অভিযোগ, ‘টাকা ফেরত চাওয়ায় আমায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকী, মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এর ফলে গত ছ’বছর মুখে কুলুপ এঁটেছিলাম।’ মাঝে সোহম বিধানসভা নির্বাচনে জিতে বিধায়ক হয়ে যাওয়ায় ‘প্রভাবশালীর’ বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাননি বলে দাবি তরুণের। এ বার রাজ্যে পালাবাদল হতেই তিনি ফের সোহমের কাছ থেকে ওই টাকা ফেরত চান। তরুণের দাবি, গত ১৯ তারিখ সোহমের ম্যানেজার তাঁকে ডেকে পাঠান বিষয়টির মীমাংসা করতে। প্রযোজকের কথায়, ‘সোহমবাবু আমায় সে দিন পরিষ্কার বলে দেন যে টাকা দিতে পারবেন না। আমি আমার আর্থিক অবস্থার কথা বলেছিলাম। কিছু টাকা দিয়েও যদি বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া যায়, এই প্রস্তাবও দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমার কথা শোনেননি৷’ তাঁর অভিযোগ, ‘এরপরে আমি তাঁকে (সোহম) বলেছিলাম, ধনুক থেকে তির বেরিয়ে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা যায় না৷ এই কথার ভুল ব্যাখ্যা করে এবং নিজেকে বাঁচাতে এখন আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া শুরু করেছেন তিনি।’
গত বুধবার সোহম সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, তিনি এই মুহূর্তে ওই প্রযোজককে টাকা ফেরত দিতে পারছেন না। তবে তরুণ যদি ছবিটি এখনও করতে চান, তা হলে তিনি শুটিংয়ের জন্য সময় দিতে রাজি আছেন। অর্থাৎ কাজের মাধ্যমেই বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেন সোহম। যদিও এতে রাজি হননি তরুণ। অভিযোগ, এরপরেই পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। সোহমের দাবি ছিল, তাঁকে ভয় দেখানো হয়। টেনে আনা হয় রাজনৈতিক প্রসঙ্গ। অন্যদিকে তরুণ বলেন, ‘আমি তাঁকে (সোহম) উদ্দেশ করে জয় শ্রীরাম বলেছিলাম। আমার মতাদর্শ আলাদা হতেই পারে।’ এ নিয়ে বিজেপি বিধায়ক এবং অভিনেত্রী রুপা গঙ্গোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হয়েছেন তরুণ। পুরো ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সোহমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। উত্তর দেননি মেসেজের। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’