Layoff: ‘৬০ দিনের মধ্যে কাজ খুঁজুন, তা না হলে দেশ…’, এবার বিপাকে হাজার হাজার ভারতীয়, বিকল্প কী? | H 1B Visa Fear Grows Among Indians as US Tech Layoffs Surge, Job Loss Could Mean Leaving America
ওয়াশিংটন : কেরিয়ারে উচ্চাকাঙ্খা ও অনেক স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন বহু ভারতীয় (Indian Workers in America)। আমেরিকায় এরকম কর্মরত ভারতীয়র সংখ্যা প্রচুর। বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থায় কাজ করছেন অনেকে। এমনকী, বিভিন্ন সংস্থার বড় পদে রয়েছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে তাঁরা সংসার পেতেছেন। বাড়ি কিনেছেন। বিদেশেই থিতু হয়েছেন। কিন্তু, একটা ইমেইল অনেক কিছু বদলে দিচ্ছে। মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থায় কর্মী ছাঁটাইয়ের (Layoff) ধুম বেড়েছে। ভারতীয় চাকুরিজীবীদের মধ্যে আরও একটা পুরোনো ভয়কেও জাগিয়ে তুলছে। ভয়টা হল চাকরি হারালে দেশে থাকার অধিকারও হারাতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে কি আমেরিকার দরজা বন্ধ হতে চলেছে ভারতীয়দের জন্য?
এইচ-১বি ভিসা ও চিন্তায় ভারতীয় চাকুরিজীবীরা
আমেরিকায় কর্মরত বেশিরভাগ ভারতীয় এইচ-১বি ভিসায় (H-1B Visa) কাজ করেন। যা সরাসরি তাঁদের নিয়োগকর্তার সঙ্গে যুক্ত থাকে। চাকরি হারানোর পর থেকেই সময় গোনা শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ভিসায় স্পনসর করতে ইচ্ছুক এমন অন্য নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করার জন্য তাঁরা সাধারণত মাত্র ৬০ দিন সময় পান। যদি দুই মাসের মধ্যে চাকরি খুঁজে না পান, তাহলে দেশ ছাড়তে হবে।
৬০-দিনের এইচ-১বি নিয়মটি কী?
ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) দ্বারা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, ছাঁটাই হওয়া H-1B কর্মীরা সাধারণত তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করার জন্য ৬০ দিনের একটি সময় পান। এই সময়ের মধ্যে তারা এমন অন্য নিয়োগকর্তার সন্ধান করতে পারেন যিনি তাঁদের ভিসার স্পনসর করতে ইচ্ছুক। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ৬০ দিনের এই সময়কাল সাধারণত কর্মচারীর শেষ কর্মদিবস থেকে শুরু হয়। শেষ বেতন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার দিন থেকে নয়।
বিকল্প উপায় কী?
আমেরিকায় কর্মরত অনেক ভারতীয় গ্রিন কার্ডের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছেন। কারও কারও সন্তান আমেরিকাতেই জন্মগ্রহণ করেছে। আবার কেউ কেউ সেখানে দীর্ঘকাল বসবাস করার জন্য বাড়ি কিনেছেন। চাকরি হারালে প্রায় রাতারাতি সেই সমস্ত পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে। নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে পাওয়া প্রায়শই সহজ হয় না। চাকরির ইন্টারভিউতে সময় লাগে, ভিসা স্থানান্তরের জন্য কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়। সাধারণত আইনজীবীরা ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের ফর্ম I-539 পূরণ করে সাময়িকভাবে B-1 বা B-2 ভিজিটর ভিসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বিকল্পটি এখনও আইনত উপলব্ধ রয়েছে। তবে, সম্প্রতি জানা গিয়েছে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখন এই ধরনের আবেদনপত্রগুলো আগের থেকে অনেক বেশি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে। কর্মীদের মধ্যে এই আশঙ্কা বেড়েছে যে বিকল্প পরিকল্পনাগুলোও হয়তো আর সেভাবে স্বস্তি দেবে না। তাই উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
কর্মী ছাঁটাই
সিলিকন ভ্যালির কোম্পানিগুলো আবারও কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মেটা প্রায় ৮ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। একাধিকবার কর্মী ছাঁটাইয়ের পর অ্যামাজনও তাদের দল ছোট করা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে লিঙ্কডইনও গত কয়েক মাসে একাধিক কর্মীকে ছাঁটাই করেছে।