ইডির সঙ্গে ‘মোলাকাত’ করতে এসে ‘জামাই আদরে’ গ্রেফতার পাপ্পু সোনা
দীর্ঘ তিন মাস পলাতক থাকার পর অবশেষে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) হাতে গ্রেফতার (Sona Pappu)হল জমি দখল ও তোলাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’। সোমবার সকালে নিজেই …
দীর্ঘ তিন মাস পলাতক থাকার পর অবশেষে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) হাতে গ্রেফতার (Sona Pappu)হল জমি দখল ও তোলাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’। সোমবার সকালে নিজেই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ED-র দফতরে হাজিরা দেয় সে। CGO কমপ্লেক্সে এসে সে বলে আমি সারেন্ডার নয় ইডির সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। এরপর দিনভর ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাকে গ্রেফতার করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। দক্ষিণ কলকাতার সিন্ডিকেট, তোলাবাজি এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের মামলায় এই গ্রেফতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।
ED সূত্রে খবর, সোনা পাপ্পুকে মূলত মানি লন্ডারিং এবং জমি দখল চক্রের আর্থিক লেনদেন নিয়ে জেরা করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, এই মামলায় আগেই গ্রেফতার হওয়া কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং ব্যবসায়ী জয় কামদারের সঙ্গে সোনা পাপ্পুর সরাসরি আর্থিক যোগাযোগের তথ্য মিলেছে। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত আরও গভীরে এগোচ্ছে।
আরও দেখুনঃ ইন্ডিয়ান সুপার লিগে প্রবেশের ছাড়পত্র পেল ডায়মন্ডহারবার এফসি
তবে জেরার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সোনা পাপ্পু দাবি করেছিল, সে কোনও জমি দখল বা বেআইনি কারবারের সঙ্গে যুক্ত নয়। এমনকি তার বিরুদ্ধে কোনও থানায় অভিযোগও নেই বলে দাবি করে সে। যদিও তদন্তকারীদের বক্তব্য, বিভিন্ন নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, কসবা, তিলজলা এবং তপসিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি চক্র পরিচালনা করত সোনা পাপ্পু। নির্মাণ ব্যবসা, জমি দখল, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রকল্প ঘিরে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন চলত বলে অভিযোগ। ED এখন খতিয়ে দেখছে, এই আর্থিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত ছিল।
সোনা পাপ্পুর অপরাধমূলক অতীতও যথেষ্ট দীর্ঘ। ২০১৫ সালে বালিগঞ্জ রেলইয়ার্ডে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রথম তার নাম প্রকাশ্যে আসে। এরপর ২০১৭ সালে একটি খুনের মামলায়ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্সি জেলের বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বী মুন্না পাণ্ডের উপর হামলার ঘটনাতেও তার নাম জড়ায়। তদন্তকারীদের মতে, গত এক দশকে দক্ষিণ কলকাতার অপরাধ জগতে ধীরে ধীরে প্রভাবশালী মুখ হয়ে উঠেছিল সে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তদন্তে এখন পুলিশ ও প্রশাসনের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্ভাব্য যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ED-র সন্দেহ, এত বড় আর্থিক লেনদেন এবং জমি দখলের কারবার কোনও উচ্চপর্যায়ের প্রভাব বা মদত ছাড়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই একাধিক পুলিশকর্তা, ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থার একাংশের মতে, এই গ্রেফতার দক্ষিণ কলকাতার সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে তদন্তে বড় মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন নথি, ব্যাঙ্ক লেনদেন এবং সম্পত্তির হিসাব খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে বলেও সূত্রের খবর। রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই ধরনের সিন্ডিকেট চক্র কাজ করছিল। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, আইন নিজের পথে চলবে এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এখন নজর আদালতের দিকে। ED সোনা পাপ্পুকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের বিশ্বাস, এই জেরা থেকে দক্ষিণ কলকাতার তোলাবাজি ও জমি দখল চক্রের আরও বড় নেটওয়ার্ক সামনে আসতে পারে।