সংবেদনশীল এলাকার ছবি পাক জঙ্গিদের! ৫ কিশোরের বিরুদ্ধে রিপোর্ট NIA র
গাজিয়াবাদ: দেশের নিরাপত্তা ঘিরে ফের বড়সড় উদ্বেগের খবর সামনে এল। (Ghaziabad)পাকিস্তান যোগে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সন্ত্রাসমূলক ষড়যন্ত্র মামলায় এবার পাঁচ নাবালকের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা NIA। গাজিয়াবাদে সংবেদনশীল রেলওয়ে এলাকাগুলিতে গোপনে নজরদারি চালানো এবং সেই তথ্য পাকিস্তানে থাকা সন্দেহভাজন জঙ্গিদের কাছে পাঠানোর অভিযোগে এই তদন্ত চলছে।
সোমবার দিল্লিতে এনআইএ জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে পাঁচ “জুভেনাইল ইন কনফ্লিক্ট উইথ ল” বা আইনভঙ্গকারী নাবালকের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ২০২৩, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ইউএপিএ (UAPA)-র একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ‘একদিন মানুষ 3D প্রিন্টারে তৈরি মাংস খাবে!’ গো হত্যায় নিষেধাজ্ঞায় মত তসলিমার
এই মামলার সূত্রপাত হয় ২০২৬ সালের মার্চ মাসে। প্রথমে গাজিয়াবাদ পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে। অভিযোগ ছিল, গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন এবং সংবেদনশীল এলাকায় সৌরশক্তি চালিত স্পাই ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। সেই ক্যামেরাগুলির লাইভ অ্যাক্সেস পাকিস্তানে থাকা সন্দেহভাজন জঙ্গিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল। পরে তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ।
তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এনআইএ-র দাবি, এই পাঁচ নাবালক অন্যান্য অভিযুক্তদের সঙ্গে মিলে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে অংশ নিয়েছিল। তাদের মূল কাজ ছিল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, রেলওয়ে এলাকা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর জায়গার ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা। শুধু তাই নয়, সেই তথ্যের সঙ্গে নির্দিষ্ট জিপিএস লোকেশনও পাঠানো হচ্ছিল পাকিস্তানে থাকা সন্দেহভাজন জঙ্গিদের কাছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযুক্ত নাবালকেরা বেআইনিভাবে নিষিদ্ধ এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশ করেছিল। তারা স্পাই ক্যামেরা বসানো, তথ্য সংগ্রহ এবং তা বিদেশে পাঠানোর কাজে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেছিল। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ এবং তা ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও এই নাবালকেরা পাক-যোগ থাকা জঙ্গিদের সহায়তা করেছিল।
এনআইএ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত এই মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তদন্ত এখানেই শেষ নয়। আরও কিছু সন্দেহভাজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংস্থার মতে, এটি শুধুমাত্র গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা নয়, দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং অখণ্ডতাকে বিপদের মুখে ফেলার একটি বড়সড় ষড়যন্ত্র।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এখন সীমান্তের বাইরেও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি তথ্য সংগ্রহের নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছে। বিশেষ করে লাইভ ক্যামেরা, জিও-ট্যাগিং এবং ডিজিটাল কমিউনিকেশন ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে সংবেদনশীল তথ্য পাচারের চেষ্টা বাড়ছে। ফলে রেল স্টেশন, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো গুলির নিরাপত্তা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।
এই ঘটনায় নাবালকদের জড়িয়ে পড়া আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে তরুণদের প্রভাবিত করে এ ধরনের কাজে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। ফলে শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, সমাজ এবং পরিবার স্তরেও সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি হয়ে পড়েছে। এনআইএ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত এই চক্রের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক ভাঙতেই এখন জোর দিচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা।
