‘আমাদের আর ভয় দেখাতে পারবে না!’ ISIS-এর ‘নাম্বার টু’ আবু বিলাল খতম
ওয়াশিংটন: বিশ্বজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব চালানো জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (IS)-এর নেটওয়ার্কে এক মস্ত বড় আঘাত হানল মার্কিন সেনা। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, নাইজেরিয়ার মাটিতে এক অত্যন্ত …
ওয়াশিংটন: বিশ্বজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব চালানো জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (IS)-এর নেটওয়ার্কে এক মস্ত বড় আঘাত হানল মার্কিন সেনা। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, নাইজেরিয়ার মাটিতে এক অত্যন্ত জটিল ও সাহসী যৌথ অভিযানে খতম আইএসের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ তথা আর্থিক মাস্টারমাইন্ড আবু-বিলাল আল-মিনুকি। আমেরিকর সঙ্গে এই বিশেষ অভিযানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনীও।(US kills ISIS second in command Abu Bilal al Minuki)
নিজের চেনা মেজাজেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ (Truth Social) ট্রাম্প এই বড় খবরটি শেয়ার করেছেন। তিনি লেখেন, “আজ রাতে আমার নির্দেশে, সাহসী আমেরিকান বাহিনী এবং নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদীকে চিরতরে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে৷ একটি নিখুঁত ও অত্যন্ত জটিল মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে সেনারা।” ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আফ্রিকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর নিজস্ব অন-গ্রাউন্ড সোর্স ছিল, যারা আল-মিনুকির গতিবিধির ওপর ২৪ ঘণ্টা কড়া নজর রাখছিল।
কে এই আবু-বিলাল আল-মিনুকি?
আবু বকর মহম্মদ আল-মাইনিকি নামেও পরিচিত এই কুখ্যাত জঙ্গি মূলত আফ্রিকার সাহেল (Sahel) অঞ্চলে সক্রিয় ছিল। সে আইএসের পশ্চিম আফ্রিকা শাখার (ISWAP) অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার ছিল। ২০২৩ সালের জুন মাসে মার্কিন প্রশাসন তাকে ‘গ্লোবাল টেররিস্ট’ (SDGT) হিসেবে ঘোষণা করে। আন্তর্জাতিক স্তর থেকে আইএসের জন্য ফাণ্ড বা টাকা জোগাড় করা এবং বিভিন্ন দেশে জঙ্গি মডিউল পরিচালনা করার মূল মাথা ছিল সে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিএনএন (CNN)-কে জানিয়েছে, আল-মিনুকি সরাসরি আমেরিকার ওপর এবং বিদেশে মার্কিন স্বার্থে বড়সড় আঘাত হানার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছিল।
কোমর ভাঙল আইএসের গ্লোবাল নেটওয়ার্কের
২০১০-এর দশকের সেই রমরমা সময়ের পর আইএস এখন অনেকটাই দুর্বল। তার ওপর এই নাইজেরীয় বংশোদ্ভূত মাস্টারমাইন্ড খতম হওয়ায় আইএসের বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক এবং আর্থিক মেরুদণ্ড একপ্রকার ভেঙে পড়ল বলে মনে করছেন ট্রাম্প। তাঁর সাফ কথা, “সে আর আফ্রিকার মানুষকে সন্ত্রস্ত করতে পারবে না বা আমেরিকানদের টার্গেট করার ছক কষতে পারবে না।” তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আল-মিনুকির মৃত্যু আইএসের আফ্রিকান নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা হলেও, এই সংগঠনটি যেহেতু ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাজ করে, তাই পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হতে আরও সময় লাগবে।
নাইজেরিয়া ও সিরিয়ায় ট্রাম্পের ধারাবাহিক ‘অ্যাকশন’
আইএস দমন নিয়ে এটাই ট্রাম্পের প্রথম অপারেশন নয়। এর আগেও নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ার জঙ্গি ক্যাম্পগুলোতে জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছিল মার্কিন সেনা। এমনকি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই সিরিয়ায় আইএসের ৩০টিরও বেশি অস্ত্রাগার ও পরিকাঠামো ড্রোনের মাধ্যমে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)। আজ আল-মিনুকির পতন সেই ধারাবাহিক সাফল্যেরই এক বড় অংশ।