আইএসএলে বড় বদলের ইঙ্গিত, নতুন মডেলের দাবি ক্লাবগুলির ! ব্যতিক্রম ইস্টবেঙ্গল
আইএসএলের বাণিজ্যিক ও পরিচালন দায়িত্ব নিজেদের হাতে নিতে চায় বেশির ভাগ ক্লাব। প্রস্তাবে অংশ নেয়নি ইস্টবেঙ্গল, নজর AIFF বৈঠকে।
ভারতীয় ফুটবলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ইন্ডিয়ান সুপার লিগ বা আইএসএলের বেশির ভাগ ক্লাব ভবিষ্যতে লিগ পরিচালনার দায়িত্ব নিজেদের হাতে নিতে চায়। শুধু খেলার আয়োজন নয়, লিগের বাণিজ্যিক দিকও ক্লাবগুলিই সামলাতে আগ্রহী। তবে এই প্রস্তাবে একমাত্র অংশ নেয়নি ইস্টবেঙ্গল। বাকি ক্লাবগুলি একসঙ্গে মিলে এই নতুন পরিকল্পনা সামনে এনেছে।
এই বিষয়ে একটি ই-মেল পাঠানো হয়েছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন বা এআইএফএফ-এর শীর্ষকর্তাদের কাছে। সেই সঙ্গে আইএসএলের অন্যান্য ক্লাব এবং কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব কুনাল কে-কেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। আগামী ২২ মে এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবের সঙ্গে আইএসএল ক্লাবগুলির বৈঠক হওয়ার কথা। তার আগেই এই প্রস্তাব সামনে আসায় বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।এর পরের দিন কলকাতায় বিশেষ সাধারণ সভা ডেকেছে এআইএফএফ। সেই সভায় আইএসএলের বাণিজ্যিক স্বত্ব, মহিলা লিগ এবং আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তাই ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই মুহূর্তে যথেষ্ট জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
ক্লাবগুলির বক্তব্য, চলতি মরশুমে লিগ পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকে তারা বুঝতে পেরেছে যে অনেক জায়গায় খরচ কমানো সম্ভব। বিশেষ করে ম্যাচ আয়োজন, সম্প্রচার, যাতায়াত, প্রশাসনিক কাজ এবং কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরও ভালো পরিকল্পনা করা যেতে পারে। তাদের মতে, বিদেশি কোনও সংস্থার পক্ষে ভারতের ফুটবল কাঠামো এবং বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি বুঝে এই কাজ করা কঠিন। এই কারণেই ক্লাবগুলি মনে করছে, তারা নিজেরাই যদি দায়িত্ব নেয়, তাহলে আরও দক্ষভাবে আইএসএল চালানো সম্ভব হবে। সেই পরিকল্পনায় জিনিয়াস স্পোর্টস নামের একটি সংস্থাকে প্রযুক্তি এবং তথ্য সহযোগী হিসেবে রাখার কথাও বলা হয়েছে। জিনিয়াস স্পোর্টস বর্তমানে আইএসএলের বাণিজ্যিক স্বত্ব পাওয়ার দৌড়ে থাকা অন্যতম সংস্থা। তারা ২০ বছরের জন্য বড় অঙ্কের প্রস্তাব দিয়েছে। জানা গিয়েছে, বছরে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা করে দেওয়ার কথা বলেছে তারা। সব মিলিয়ে যার মূল্য প্রায় ২১২৯ কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই ক্লাবগুলির সামনে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে এই সংস্থা। তবে তাদের আর্থিক মডেল নিয়ে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করছে ক্লাবগুলি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নতুন এই মডেলের কারণে এআইএফএফ যেন কোনও আর্থিক ক্ষতির মুখে না পড়ে, সেই নিশ্চয়তাও দিয়েছে ক্লাবগুলি। জিনিয়াস স্পোর্টস যে পরিমাণ টাকা প্রতি বছর ফেডারেশনকে দেওয়ার কথা, সেই একই পরিমাণ অর্থ ক্লাবগুলি নিজেদের তরফে দিতে রাজি হয়েছে। অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থা চালু হলেও ফেডারেশনের নির্দিষ্ট আয় কমবে না। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, খেলাধুলার নিয়ম, শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এআইএফএফ-এর হাতেই থাকবে। কিন্তু লিগের বাণিজ্যিক দিক, কাঠামো এবং পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে ক্লাবগুলিও সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার চাইছে। সব মিলিয়ে ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে এখন যথেষ্ট উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের বৈঠকেই এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।