‘দুর্দিনে’ পাশে নেই দল, অভয় দিচ্ছে বিজেপি
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১৫টি বিধানসভার মধ্যে কেশপুর ও খড়্গপুর গ্রামীণ বাদে ১৩টি আসনে জয়ী বিজেপি। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর থেকেই কেশপুর, গড়বেতা-সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পাল্টাতে শুরু করেছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। কেশপুরে প্রায় পঞ্চাশ হাজার ভোটে জিতেও কার্যত চাপে তৃণমূল নেতৃত্ব। অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয় বন্ধ। কোথাও কোথাও বিজেপির পতাকা টাঙানো হয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের কার্যালয়ও বন্ধ। জেলা সভাপতি তথা পরাজিত প্রার্থী সুজয় হাজরার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ ব্লক স্তরের নেতাদের একাংশের। গড়বেতা ব্লক তৃণমূল সভাপতি অসীম সিংহ রায় বলেন, ‘যদিও সব দলীয় কার্যালয় দখল হয়নি। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় অফিস খোলার সাহস পাচ্ছেন না নেতা–কর্মীরা। বহু কর্মী আতঙ্কে এলাকাছাড়া।’ জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘উপরের স্তরের নেতৃত্ব যদি হাত তুলে নেন, তাহলে নিচুতলার কর্মীরা কী ভাবে ভরসা পাবেন?’ সরব কেশপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রদ্যুত পাঁজাও। তাঁর অভিযোগ, রাতারাতি গোটা এলাকার রাজনৈতিক চিত্র বদলে গিয়েছে। দলের পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির প্রতিনিধিরাও এলাকায় স্বাভাবিক ভাবে যেতে পারছেন না। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় দলের কর্মীদের উপর চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর। তাঁর দাবি, ‘জয়ী প্রার্থী শিউলি সাহা পর্যন্ত এলাকায় আসতে পারছেন না। আমরা অসহায় পরিস্থিতিতে রয়েছি।’