অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বকেয়া দাবি কি মিটবে? মন্ত্রী অগ্নিমিত্রার কাছে একগুচ্ছ প্রত্যাশা
এই সময়, আসানসোল: নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্বভার পেয়েছেন আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা থেকে জয়ী বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল। এই খবরে তাঁর নিজের বিধানসভা এলাকা তো বটেই, গোটা রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের প্রত্যাশার পারদ চড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবিদাওয়া পূরণ এবং শিশুদের পুষ্টির মান বাড়ানোর আর্জি নিয়ে এখন নতুন মন্ত্রীর দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন কর্মীরা। দুপুরে খাবারের পাতে আরও একটু বেশি করে পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার আবেদনও করেছেন প্রসূতিরা।
দীর্ঘদিন ধরেই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা তাঁদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। জেলা স্তর থেকে শুরু করে কলকাতার সদর দপ্তর— সর্বত্রই চলেছে ধরনা ও অবস্থান বিক্ষোভ। সরকার বদল হলেও নিজেদের লক্ষ্যে অনড় কর্মীরা। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সহায়িকা ও আশাকর্মী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন রাজ্য সদস্য রমা বক্সি সোমবার বলেন, ‘নির্বাচনের আগে যে দাবিগুলিকে কেন্দ্র করে আমরা আন্দোলন করেছি, তার কিছুটা পেয়েছি। তবে পুরোটা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। নতুন মন্ত্রীকে আমরা অবশ্য কিছুটা সময় দিতে চাই।’
কর্মীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সাম্মানিক বৃদ্ধি। বর্তমানে তাঁরা মাসে প্রায় ন’হাজার টাকা পান, যা দিয়ে বর্তমান বাজারে সংসার চালানো অসম্ভব বলে তাঁদের দাবি। তাই সি এবং ডি গ্রুপে উন্নীত করার পাশাপাশি টিএ, ডিএ এবং ভবিষ্যনিধি বা প্রভিডেন্ট ফান্ড প্রকল্পের আওতায় আসার আবেদন জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও কর্মরত অবস্থায় কোনও কর্মীর মৃত্যু হলে এককালীন পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের দাবিও রয়েছে। রমা বক্সি মনে করিয়ে দিয়েছেন, আগের সরকার ভোট অন অ্যাকাউন্টে এই প্রসঙ্গের উল্লেখ করেছিল, এখন নতুন সরকার তা দ্রুত কার্যকর করবে— এটাই তাঁদের প্রার্থনা।
অন্য দিকে, পুষ্টির মান নিয়েও দাবি উঠেছে উপভোক্তাদের পক্ষ থেকে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি থেকে প্রসূতি ও শিশুদের সপ্তাহে ছ’দিন রান্না করা খাবার দেওয়া হয়। যার মধ্যে ভাত, ডাল, সবজি ও ডিম যেমন থাকে, তেমনই কয়েকদিন খিচুড়িও দেওয়া হয়। আসানসোল দক্ষিণের রেলগেট খাটালপাড়া অঞ্চলের সুবিধাভোগী পুনিতা দেবী ও সঙ্গীতা যাদবদের বক্তব্য, ‘কেন্দ্র থেকে পেটভরে খাবার পাওয়া যায় ঠিকই, তবে খাবারের মান আরও একটু ভালো ও পুষ্টিকর করা হলে আমরা উপকৃত হতাম।’ সপ্তাহে এক দিন খাবার বন্ধ রাখার প্রথা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে অনেকের মনে।
পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিকাঠামোও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন নেই। কোনওটি চলছে ক্লাবঘরে, আবার কোনওটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার পরিত্যক্ত আবাসনে। যেমন, আসানসোল দক্ষিণের ৭৮ নম্বর ওয়ার্ডে পেট্রল পাম্প সংলগ্ন একটি ইস্কোর পরিত্যক্ত আবাসনে কেন্দ্র চলছে, যা খালি করার নোটিসও দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। জনৈক অঙ্গনওয়াড়ি পরিচালক পূজা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পরিকাঠামোগত সমস্যায় কেন্দ্র চালানো দায় হয়ে পড়ছে। এই বিষয়ে স্থানীয় পুরপ্রতিনিধি অশোক রুদ্র বলেন, ‘নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী উদ্যোগী হয়ে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির নিজস্ব ভবন তৈরির ব্যবস্থা করলে এই সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি মিলবে।’
নতুন সরকার ও দপ্তরের নতুন মন্ত্রীর হাত ধরে দীর্ঘদিনের এই জট কাটবে কি না, এখন সেটাই দেখার। তবে অগ্নিমিত্রা পাল এই বিষয়ে কর্মীদের আশ্বস্ত করেছেন বলেই খবর।