ভারতীয় দূতাবাসের সামনে গরু জবাই করে যুদ্ধ ঘোষণার হুঁশিয়ারি বাংলাদেশি মৌলানার
ঢাকা: বাংলাদেশে এক বিতর্কিত ইসলামী বক্তা ও মৌলানা (Bangladeshi cleric)হাফিজ সম্প্রতি ভারতের বিরুদ্ধে অত্যন্ত উস্কানিমূলক ও হুমকিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও ধর্মীয় মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। তিনি …
ঢাকা: বাংলাদেশে এক বিতর্কিত ইসলামী বক্তা ও মৌলানা (Bangladeshi cleric)হাফিজ সম্প্রতি ভারতের বিরুদ্ধে অত্যন্ত উস্কানিমূলক ও হুমকিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও ধর্মীয় মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেছেন, “গজওয়া-ই-হিন্দের সময় এসেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা ভারতীয় হাইকমিশন ঘিরে ফেলব, তার সামনে গরু জবাই করব, ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেব এবং সীমান্তে আমাদের শক্তি বাড়াব।”
এই বক্তব্যটি ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর দুই দেশের নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে এটিকে সরাসরি যুদ্ধ উস্কানি ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো বলে নিন্দা করেছেন। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেও নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মৌলানা হাফিজ তাঁর ভিডিও বার্তায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর নাকি মুসলমানদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে তিনি ভারতীয় দূতাবাসের সামনে প্রতীকী গরু জবাইয়ের কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন।
আরও দেখুনঃ গ্রামোন্নয়নে ‘প্রচুর’ কর্মী নিয়োগের বার্তা পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের
তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভারতকে বার্তা দেওয়া হবে যে বাংলাদেশের মুসলমানরা চুপ করে বসে থাকবে না।এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, এ ধরনের বক্তব্য দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিদ্যমান সংবেদনশীল সম্পর্ককে আরও খারাপ করে তুলবে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় ইতিমধ্যে যে উত্তেজনা রয়েছে, তাতে এমন উস্কানি আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করতে পারে।
🚨 Bangladeshi moulana Hafiz declares:
“Time for Ghazwa-e-Hind has come. Within 1 week we will surround the Indian High Commission, slaughter a cow in front of it, prepare for war against India & strengthen our forces on the Indian border.”
A few days later, you will see that… pic.twitter.com/TKd8sME4Mw
— Voice Of BD Hindus 🇧🇩 (@ItzBDHindus) May 11, 2026
ভারতীয় হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতিমধ্যে জোরদার করা হয়েছে।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের একাংশ এই বক্তব্যের কঠোর নিন্দা করেছেন। তাঁরা বলছেন, ধর্মের নামে যুদ্ধের ডাক দেওয়া এবং প্রতিবেশী দেশের দূতাবাসের সামনে প্রকাশ্যে গরু জবাইয়ের হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এটি শুধু আইনবিরোধী নয়, দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকেও ক্ষুণ্ণ করে।অন্যদিকে কট্টরপন্থী কিছু গোষ্ঠী মৌলানা হাফিজের বক্তব্যকে সমর্থন করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় অংশই মনে করেন, এ ধরনের উগ্র বক্তব্য দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে এবং অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে ক্ষতির মুখে ফেলছে।