রাজনৈতিক হিংসায় মৃতদের পরিবার চাইলে তদন্ত, জানালেন শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক বৈঠক এবং সাংবাদিক সম্মেলন থেকে তিনি রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং …
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক বৈঠক এবং সাংবাদিক সম্মেলন থেকে তিনি রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে বড় বার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারকে তদন্তের আশ্বাস দিয়ে রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী প্রথমেই রাজ্যের ভোটার, নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ, পর্যবেক্ষক এবং সমস্ত রাজনৈতিক দলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের এই বৃহৎ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সকলের অবদান রয়েছে। আমি প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।” তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক সৌজন্যের বার্তা স্পষ্টভাবে উঠে আসে। নির্বাচনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর তাঁর এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে রাজনৈতিক হিংসায় মৃতদের নিয়ে তাঁর মন্তব্য। শুভেন্দু অধিকারী জানান, আন্দোলন এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, সেই ৩২১ জনের পরিবারের সদস্যরা চাইলে সরকার তদন্ত শুরু করবে। তিনি বলেন, “কোনও পরিবারের উপর আমরা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেব না। যদি তাঁরা চান, তাহলে সরকার নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করবে।” এই ঘোষণাকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক হিংসা পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছিল। নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে নতুন সরকার মানবিক বার্তা দিতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা। তাঁর কথায়, “দেশের নিরাপত্তা সবার আগে। সীমান্ত সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সবরকম সহযোগিতা করবে রাজ্য সরকার।” এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা, চোরাচালান এবং অনুপ্রবেশ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। বিএসএফকে আরও শক্তিশালী পরিকাঠামো দিতে এই জমি হস্তান্তর বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, এবার পশ্চিমবঙ্গে চালু হবে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প। পাশাপাশি ‘জন আরোগ্য যোজনা’ এবং প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পও কার্যকর করা হবে। এতদিন এই প্রকল্পগুলি নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ছিল। তবে নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের সাধারণ মানুষ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হলে লক্ষ লক্ষ পরিবার বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। স্বাস্থ্য পরিষেবার খরচ কমানো এবং সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।