মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে বড় নিয়োগ, কার হাতে গেল ব্যক্তিগত সচিবের দায়িত্ব?
মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari private secretary) পদে শপথ গ্রহণের পরই প্রশাসনিক কাঠামোতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ব্রিগেডে শপথ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ …
মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari private secretary) পদে শপথ গ্রহণের পরই প্রশাসনিক কাঠামোতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ব্রিগেডে শপথ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সামনে আসে। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা হিসেবে সুব্রত গুপ্তের নিয়োগ। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে, তখন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে নবান্ন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে নিয়োগ পেলেন আইএএস অফিসার শান্তনু বালা।
শান্তনু বালার এই নিয়োগ ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কে তিনি, কী তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, এবং কেন তাঁকেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হল এই প্রশ্নগুলোই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
শান্তনু বালা পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের ২০১৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক পদে কর্মরত ছিলেন। প্রশাসনিক স্তরে তিনি একজন দক্ষ ও কর্মনিষ্ঠ আধিকারিক হিসেবে পরিচিত। তাঁর জন্ম ১৯৮৮ সালের ১৬ নভেম্বর। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও তিনি অত্যন্ত মেধাবী। বায়ো-টেকনোলজিতে এম.টেক ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই প্রশাসনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার (Suvendu Adhikari private secretary) অতিরিক্ত জেলাশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিভিন্ন প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। জেলা পর্যায়ে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং জনসেবামূলক কাজের সঙ্গে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। সেই অভিজ্ঞতাকেই এবার রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari private secretary) ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। এই পদে থাকা আধিকারিককে মুখ্যমন্ত্রীর দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্মের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকতে হয়। তাঁর সময়সূচি, বৈঠক, সফরসূচি এবং গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারের সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব থাকে ব্যক্তিগত সচিবের উপর। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দফতর, শীর্ষ আমলা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রেও এই পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক পদ নয়, বরং এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দায়িত্বপূর্ণ অবস্থান। কারণ, রাজ্যের নীতিনির্ধারণী স্তরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সিদ্ধান্ত এই দফতরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে এই পদে এমন একজনকে প্রয়োজন হয় যিনি দক্ষ, নির্ভরযোগ্য এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম।
শান্তনু বালার নিয়োগ সেই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের একজন আইএএস অফিসারকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার মাধ্যমে প্রশাসনে নতুন গতিশীলতা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। একইসঙ্গে এটি প্রশাসনিক পরিকাঠামোকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করার দিকেও ইঙ্গিত দিচ্ছে।