দিলীপ–নিশীথ–অগ্নিমিত্রা, নির্দিষ্ট অঙ্ক কষেই পদ্ম–ক্যাবিনেট
এই সময়: বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকারের ক্যাবিনেটে ঠাঁই পাচ্ছেন কারা, তা নিয়ে শনিবার শপথগ্রহণের আগের মুহূর্ত পর্যন্ত জল্পনা চলছিল। শেষমেশ মতুয়া, রাজবংশী, আদিবাসী, মহিলা–মুখের সমীকরণে পাঁচজন মন্ত্রীকে নিয়ে ব্রিগেড ময়দানে শনিবার শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা কলেবরে বৃদ্ধি পাবে। তবে প্রাথমিক ভাবে যে পাঁচজন মন্ত্রী এ দিন শপথ নিয়েছেন, তা নির্দিষ্ট সমীকরণকে মাথায় রেখেই ঠিক করা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রের খবর। এই পাঁচ মন্ত্রীরও দপ্তর বণ্টন এ দিন হয়নি। সেটা আগামী সপ্তাহের গোড়াতেই হতে পারে।
রাজ্যের মতুয়া বলয়, রাজবংশী প্রভাবিত এলাকা, আদিবাসী প্রভাবিত এলাকায় গেরুয়া ঝড়ে জোড়াফুল উড়ে গিয়েছে। অশোক কীর্তনিয়া উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া বলয়ের পরিচিত মুখ। উত্তরবঙ্গে রাজবংশী সমাজের প্রতিনিধি নিশীথ প্রামানিক। ক্ষুদিরাম টুডু রাঢ়বঙ্গের আদিবাসী মুখ। এই তিনজন শনিবার মন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর পরেই এই পাঁচজনের মধ্যে সব থেকে হেভিওয়েট মুখ হলেন িদলীপ ঘোষ। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপের আমলেই ২০২১–এ পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া শিবির বিধানসভায় ৭৭–য়ে পৌঁছে প্রধান বিরোধী দল হয়। দিলীপ বিজেপির অন্দরে আরএসএস–র পাঠানো নেতা হিসেবে পরিচিত, বঙ্গ বিজেপির হাল ধরতে ২০১৫–তে সঙ্ঘের ঘেরাটোপ থেকে বের করে যাঁকে দলের রাজ্য সভাপতির গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দিলীপের প্রশাসন চালানোর অভিজ্ঞতা না–থাকলেও সংগঠন পরিচালনা করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিধায়ক এবং সাংসদ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে রয়েছে তাঁর। এখনও দপ্তর ঠিক না–হলেও মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন দিলীপ। তিন দশকের বেশি সময় সঙ্ঘ পরিবারের প্রচারক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ–সহ একাধিক রাজ্যে কাজ করেছেন দিলীপ। এখন মন্ত্রী হয়ে দিলীপের কী রোডম্যাপ? বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির কথায়, ‘অনেক কাজ রয়েছে, দপ্তর বিতরণ হোক। রাজ্যের আইন–শৃঙ্খলার অবস্থা খারাপ, শিল্প নেই— অনেক কাজ রয়েছে। ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে। সংগঠন যেমন ঠান্ডা মাথায় পরিচালনা করতে হয়, মন্ত্রীকেও ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হয়।’
বিজেপির একাধিক নেতার পর্যবেক্ষণ, শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন পাঁচজন মন্ত্রীর মধ্যে দিলীপকে রেখে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, এই সরকারের সূচনা থেকেই সঙ্ঘের প্রভাব থাকবে। দিলীপ ছাড়াও সঙ্ঘের আরও কয়েকজন পোড়খাওয়া মুখ শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন। বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ শাখা সংগঠন মহিলা মোর্চার সভানেত্রী ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। গত পাঁচ বছরে বিধানসভাতেও বিভিন্ন সময়ে সরব থেকেছেন তিনি। বিজেপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও সামলেছেন। মহিলা মোর্চা বিজেপির একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা সংগঠন। তাই শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় প্রথম মহিলা মুখ হিসেবে অগ্নিমিত্রাকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে বিজেপির বেশ কয়েকজন জয়ী প্রার্থীর পর্যবেক্ষণ। ব্রিগেডে শপথগ্রহণের পর সংবাদমাধ্যমকে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘যে প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছি তা পূরণ করা আমাদের লক্ষ্য। ২৪ ঘণ্টা, ৩৬৫ দিন আমাদের কাজ করতে হবে। টিমওয়ার্ক করতে হবে। শুভেন্দু অধিকারী খুব ভালো লিডার। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর থেকে ভালো মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ পেত না।’
২০১৯–এ রাজ্যে বিজেপির উত্থান হওয়ার পর থেকেই উত্তরবঙ্গ গেরুয়া শিবিরের শক্ত ঘাঁটি। নিশীথ ছাড়াও উত্তরবঙ্গ থেকে আরও মুখ শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় আসবেন বলে বিজেপি নেতাদের একাংশের বক্তব্য। বিজেপি প্রতিষ্ঠার পরে এই প্রথম কলকাতায় গেরুয়া শিবির শুধু খাতা খোলেনি, ছ’টি আসনে জয়ী হয়েছে। কলকাতা থেকেও একাধিক মুখ মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে চলেছেন বলে বিজেপি সূত্রের খবর।