CM Suvendu Adhikari: ‘বাম হাতটা পকেটে রাখতো, বড্ড লাজ্জুক ছিল বুবাইদা…’, কলেজ লাইফের কথা বললেন শুভেন্দুর বন্ধু – Bengali News | ‘Bubai Da Was Very Shy in College’, West Bengal CM Suvendu Adhikari’s Friend Recalls Student Life Memories
কী বলছেন কলেজের সতীর্থরা?Image Credit: TV 9 Bangla GFX
কলেজ জীবন থেকে ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি। কংগ্রেস থেকে তৃণমূল কংগ্রেস তারপর বিজেপি। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ বসতে চলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে। প্রাক্তন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে। লড়াই করেছেন শমীক-দিলীপ-সুকান্তদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। পদ্ম ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে ঘাসফুল। কিন্তু জানেন এই শুঙেন্দুকেই কলেজের সতীর্থরা ডাকতেন বুবাই বলে! আজ শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রীর মসনদে বসতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছেন তাঁর জুনিয়র থেকে ক্লাসমেটরা।
‘শুভেন্দুদাকে তো আমরা বুবাইদা বলেই ডাকতাম’
টিভি৯ বাংলার মুখোমুখি হয়েছিলেন একসময়ে শুভেন্দুর কলেজের সহপাঠী গোপাল কৃষ্ণ দাস। আবেগাপ্লুত তিনিও। কলেজে ক্যান্টিনের বাইরে আড্ডা থেকে ক্লাসের ফাঁকে ছাত্র রাজনীতি, গোপালবাবু নিয়ে চললেন শুভেন্দুর যুববেলায়। স্মৃতিচারণা করতে করতেই বললেন, “শুভেন্দুদাকে তো আমরা বুবাইদা বলেই ডাকতাম। ১৯৮৯ সালে কাঁথি প্রভাত কুমার কলেজে একাদশ শ্রেণিতে কমার্স নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। ছাত্র জীবনে খুবই ছাত্রদরদী নেতা ছিলেন। কারও কোনও সমস্যার কথা শুনলে যতক্ষণ না তিনি তার সমাধান করতে পারছেন ততক্ষণ তাঁর মন ছটফট করতো। তাঁর থেকে অনেক কিছু শিখেছি আমরা।”
ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশের পর থেকেই ছাত্র পরিষদ করতেন। কাঁথি কলেজে এসএফআই-এর সঙ্গে ছাত্র পরিষদের তখন রীতিমতো টক্কর। রাজ্যে তখন পুরোদমে চলছে বাম শাসন। গোপালবাবু বলছেন, “ওনার চলার পথে অনেক ছোট ছোট বিষয় আমরা লক্ষ্য করতাম। বেশ কিছু বছর ওনার ছায়াসঙ্গীও ছিলাম। উনি খুবই জনপ্রিয় ছিলেন পড়ুয়াদের কাছে। অধ্যাপকদের কাছেও খুবই অল্পদিনের মধ্যে জনপ্রিয়ও হয়ে ওঠেন। কলেজে যদিও উনি খুবই লাজুক ছিলেন। কলেজে যখন ঢুকতেন বা বেরোতেন ওনার বাম হাতটা সব সময়ই বাম পকেটে থাকতো। খুব ভাল ছাত্রও ছিলেন। অনেক কিছু শিখেছি ওনার থেকে। উনি তো আমাদের জীবনের আইকন।”
‘হাজার হাজার মোবাইলের নম্বর উনি ঝড়ের মতো বলতে পারেন’
শুধু রাজনৈতিক বিচক্ষণতাই নয়, শুভেন্দু অধিকারীর ধারল স্মৃতি শক্তিরও সাধুবাদ জানান তাঁর সহপাঠীরা। গোপালবাবু বলছেন, “ওনার স্মৃতি শক্তি এত প্রখর যে হাজার হাজার মোবাইলের নম্বর উনি ঝড়ের মতো বলতে পারেন। উনি তো কলেজে পর পর দুটি টার্মে জিএস ছিলেন। পরবর্তী ব্লক, মহকুমা, টাউনে ওনার জনপ্রিয়তা বাড়তে থেকেছে। ওনার কোনও কাজের প্রতি একাগ্রতা, নিষ্ঠা প্রশ্নাতীত।” রাজনৈতিক উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলেও থাকলেও এখনও যে শুভেন্দুর পা মাটিতেই রয়েছে তা বেশ জোর দিয়েই বললেন গোপালবাবু। একরাশ উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বললেন, “এখনও কোথাও দেখা হলেই গাড়ি দাঁড় করিয়ে কথা বলেন, ভাব বিনিময় করেন। হোয়াটসঅ্যাপেও যোগাযোগ রয়েছে। এত উচ্চতায় পৌঁছে গেলেও আমাদের কিন্তু উনি ভোলেননি। সেই বুবাইদা যে আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এটা ভাবলেই গর্ব হয়।”