বঙ্গ জয়ের পরই বন্দেমাতরম নিয়ে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের, কী বলছে নয়া নিয়ম?
নয়াদিল্লি: ভারতের জাতীয় সংহতি ও দেশপ্রেমের ভাবাবেগকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-কে এবার থেকে জাতীয় সংগীত …
নয়াদিল্লি: ভারতের জাতীয় সংহতি ও দেশপ্রেমের ভাবাবেগকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-কে এবার থেকে জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-র সমান মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিল কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এই বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হল, যা রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। (Modi Cabinet gives Vande Mataram equal status to national anthem)
এখন থেকে রাষ্ট্রীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’-কে অসম্মান বা অবমাননা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে। ইতিপূর্বে ‘ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট’ অনুযায়ী কেবল জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সংগীতের অবমাননার ক্ষেত্রে সাজার বিধান ছিল। এবার এই আইনের সেকশন ৩ সংশোধন করে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অনীহা বা অবমাননা প্রদর্শন করলে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানার সংস্থান রাখা হয়েছে৷
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই গানটি গাওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে। এখন থেকে সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া ও বাজানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা মূল গানের ৬টি স্তবকই গাওয়া আবশ্যিক। নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি জাতীয় সংগীত ও রাষ্ট্রীয় গীত একসঙ্গে বাজানো হয়, তবে ‘বন্দে মাতরম’ আগে বাজাতে হবে। এ ছাড়াও, গানটি বাজার সময় প্রত্যেক শ্রোতাকে সসম্মানে উঠে দাঁড়াতে হবে বলে জানানো হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এই অবিস্মরণীয় গানটি সাংবিধানিক সুরক্ষাকবচ ও সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করল।