২০২৬-এর এই মহাজয়ের শিকড় কি লুকিয়ে ১৯৯১-এর ভিক্টর-লড়াইতে?
কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জয়লাভ করে বাংলায় ইতিহাস গড়েছে বিজেপি। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে এই বিপুল জনাদেশ প্রমাণ করেছে যে …
কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জয়লাভ করে বাংলায় ইতিহাস গড়েছে বিজেপি। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে এই বিপুল জনাদেশ প্রমাণ করেছে যে বাংলার রাজনৈতিক মেরুকরণ এখন সম্পূর্ণ। কিন্তু আজকের এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের বীজ বপন করা হয়েছিল বহু বছর আগে, ১৯৯১ সালের এক অসম লড়াইয়ে।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন বাংলায় বামফ্রন্টের একাধিপত্য এবং কংগ্রেসই ছিল প্রধান বিরোধী শক্তি, তখন বিজেপির হয়ে ময়দানে নেমে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়। সত্যজিৎ রায় বা ডেভিড লিনের মতো বিশ্ববরেণ্য পরিচালকদের প্রিয় এই অভিনেতা হঠাতই রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। ১৯৯১ সালের লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা উত্তর-পশ্চিম আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী হন তিনি। সেই সময় রাজ্যে রাম জন্মভূমি আন্দোলনের প্রভাব থাকলেও বিজেপি ছিল প্রান্তিক শক্তি। শক্তিশালী বাম ও কংগ্রেস শিবিরের বিরুদ্ধে লড়াই করে ভিক্টর সেবার ২১.০৮ শতাংশ ভোট (৮৯,১৫৫টি) পেয়েছিলেন। জয়ী প্রার্থী দেবী প্রসাদ পালের কাছে হারলেও, বাম দুর্গে তাঁর এই ২১ শতাংশ ভোটপ্রাপ্তি বিজেপির ভবিষ্যৎ উত্থানের আগাম সংকেত দিয়ে রেখেছিল।
কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেই প্রচার?
ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই প্রার্থীপদ প্রমাণ করেছিল যে বিজেপি কেবল ‘বহিরাগত’ দল নয়, বরং তারা বাংলার পরিচিত মুখদেরও আকৃষ্ট করতে সক্ষম। সেই সময় জেতা সম্ভব না হলেও, ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক বাড়াতে এবং পরিচিতি গড়ে তুলতে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিলেন।
দীর্ঘ যাত্রা ও ২০২৬-এর ফল
১৯৯১-এর সেই পরীক্ষার পর ১৯৯৮ সালে বিজেপি বাংলায় প্রথম লোকসভা আসনে জয়ের মুখ দেখে। আর কয়েক দশকের সেই দীর্ঘ লড়াই আজ ২০২৬ সালে পূর্ণতা পেল ২০৬টি আসন জয়ের মাধ্যমে। আজকের এই বিপুল জয়কে বিশ্লেষণ করতে গেলে ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই ১৯৯১-এর প্রচারকে এই দীর্ঘ গল্পের প্রথম দৃশ্য হিসেবেই গণ্য করা যায়।