ফিফা মঞ্চে বিতর্ক, ইজরায়েল প্রতিনিধির সঙ্গে করমর্দনে অস্বীকার প্যালেস্টাইনের
ভ্যাঙ্কুভারের ফিফা কংগ্রেসে ইজরায়েল প্রতিনিধির সঙ্গে করমর্দন করতে অস্বীকার প্যালেস্টাইনের। গাজা পরিস্থিতি ঘিরে ফুটবলের মঞ্চে রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রকাশ্যে।
এবারের ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে উত্তেজনার পাশাপাশি বিতর্কের আবহও তৈরি হতে শুরু করেছে। সেই ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ৭৬তম ফিফা কংগ্রেস-এ। বিশ্বকাপের আগে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনেই একাধিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছে, যা ভবিষ্যতের টুর্নামেন্টকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে।
প্রথম বিতর্ক তৈরি হয় ইরানকে ঘিরে। জানা যায়, ইরানের প্রতিনিধিদলের এক সদস্যকে কানাডায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে। যদিও জিয়ানি ইনফান্তিনো পরিষ্কার করে দেন যে, সব জটিলতা সত্ত্বেও আসন্ন বিশ্বকাপে ইরান অংশ নেবে এবং তাদের ম্যাচ আমেরিকাতেই অনুষ্ঠিত হবে। তবে সম্মেলনের সবচেয়ে আলোচিত এবং উত্তপ্ত মুহূর্ত আসে ইজরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্যালেস্টাইন ফুটবল সংস্থার প্রধান জিব্রিল রাজৌব এবং ইজরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি বাসিম শেখ সুলিমান।
আরও পড়ুন: আইএসএল রেফারিং বিতর্কে মুখ খুললেন প্রাঞ্জল, বাংলার সংকট নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো তাঁদের একসঙ্গে দাঁড়িয়ে করমর্দনের জন্য আহ্বান জানান, যা সাধারণত সৌহার্দ্য ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু সেই মুহূর্তেই পরিস্থিতি অন্য মোড় নেয়। রাজৌব প্রকাশ্যে করমর্দন করতে অস্বীকার করেন। শুধু তাই নয়, তিনি ইজরায়েলি প্রতিনিধির সঙ্গে ছবি তুলতেও রাজি হননি। এই আচরণের পক্ষে সাফাই দিয়ে প্যালেস্টাইন ফুটবল সংস্থার সহ-সভাপতি সুসান শালাবি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের সঙ্গে এমন কোনও সৌজন্যমূলক আচরণ করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা—যেখানে ক্রীড়া পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, বহু অ্যাথলিট প্রাণ হারিয়েছেন, এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: বাংলার ফুটবলের নতুন বিস্ময়? মুখোমুখি আরএফডিএলের সর্বোচ্চ গোলদাতা তানবীর দে
শালাবির মতে, এই অবস্থায় করমর্দন বা ছবি তোলা মানে বাস্তব পরিস্থিতিকে অস্বীকার করা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইজরায়েলি প্রতিনিধির বক্তব্যে ফিলিস্তিনের বর্তমান সংকটের প্রতি কোনও সহানুভূতি বা গুরুত্ব দেখা যায়নি। ফলে এমন পরিস্থিতিতে সৌজন্য বজায় রাখা তাঁদের কাছে নীতিগতভাবে অসম্ভব। অন্যদিকে, ইনফান্তিনো পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন, ফুটবলকে বিভাজনের নয়, বরং ঐক্যের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। তাঁর মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়া জরুরি, যেখানে সবাই একসঙ্গে কাজ করবে।
তবে প্যালেস্টাইন পক্ষের দাবি, এই করমর্দনের উদ্যোগ আসলে মূল সমস্যাকে আড়াল করার চেষ্টা। রাজৌব দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ম মেনে চলা এবং সদস্য দেশগুলির অধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলেও, শেষ পর্যন্ত পুরো আলোচনাটিকে হালকা করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেই তাঁদের অভিযোগ। সব মিলিয়ে, এই ঘটনাগুলি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আসন্ন বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং মানবিক সংকটও তার উপর গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে।