April Fool’s Day 2026: বন্ধু-বান্ধবকে চুটিয়ে বোকা বানাচ্ছেন? জানেন কেন ১ এপ্রিলই বোকা বানানোর দিন? - 24 Ghanta Bangla News
Home

April Fool’s Day 2026: বন্ধু-বান্ধবকে চুটিয়ে বোকা বানাচ্ছেন? জানেন কেন ১ এপ্রিলই বোকা বানানোর দিন?

Spread the love

April Fool’s Day 2026: বন্ধু-বান্ধবকে চুটিয়ে বোকা বানাচ্ছেন? জানেন কেন ১ এপ্রিলই বোকা বানানোর দিন?

ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ১ এপ্রিল। ক্যালেন্ডারের এই বিশেষ দিনটি এলেই অনেকে বেজায় চাপে থাকেন, এই বুঝি কেউ বোকা বানিয়ে দিল! অফিস হোক বা বন্ধুদের আড্ডা, সারা বিশ্বে আজ শুধুই হাসি-ঠাট্টা আর প্র্যাঙ্ক। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, বোকা বানানোর জন্য বছরের এই একটা দিনকেই কেন বেছে নেওয়া হল? এর নেপথ্যে কি কেবলই মজা, নাকি লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও ইতিহাস?

অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে, এপ্রিল ফুল দিবসের সূচনা হয়েছিল ১৫৮২ সালে ফ্রান্সে। সেই সময় পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি পুরনো জুলিয়ান ক্যালেন্ডার বদলে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তন করেন। আগে নতুন বছর শুরু হত ১ এপ্রিল। কিন্তু নতুন ক্যালেন্ডারে নববর্ষের দিন পিছিয়ে চলে যায় ১ জানুয়ারিতে।

বিভ্রাটটা বাঁধল সেখানেই। সেই যুগে আজকের মত স্মার্টফোন বা ইন্টারনেটের দ্রুত খবর পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল না। ফলে ফ্রান্সের বহু মানুষ জানতেই পারেননি যে নববর্ষের তারিখ বদলে গিয়েছে। অনেকে আবার খবর পেলেও পুরনো ঐতিহ্য ছাড়তে রাজি ছিলেন না। তাঁরা ১ এপ্রিলেই নতুন বছর উদযাপন করতে থাকেন। এই ‘অনাধুনিক’মানুষদের নিয়ে মজা করা শুরু করেন নতুন নিয়ম মানা একদল মানুষ। তাঁরা ১ এপ্রিলের উদযাপকদের পিঠে কাগজের মাছ সেঁটে দিতেন (যাকে ফরাসি ভাষায় বলা হয় ‘Poisson d’Avril’ বা এপ্রিল ফিশ) এবং তাঁদের নিয়ে হাসিঠাট্টা চলত। সেই থেকেই মূলত এই দিনটি ‘অল ফুলস ডে’ বা ‘এপ্রিল ফুলস ডে’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

তবে এছাড়াও আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় গল্প প্রচলিত আছে। প্রাচীন রোমে ‘হিলারিয়া’ (Hilaria) নামে এক উৎসব পালিত হত মার্চের শেষ দিকে। সেখানে মানুষ ছদ্মবেশ ধারণ করতেন এবং একে অপরকে নিয়ে তামাশা করতেন। অনেকের মতে, এই উৎসবেরই আধুনিক রূপ আজকের এপ্রিল ফুল দিবস। আবার কারও মতে, এটি প্রকৃতির খেয়াল। বসন্তের এই সময়ে আবহাওয়া বড্ড খামখেয়ালি থাকে। কখনও রোদ্দুর, কখনও ঝিরঝিরে বৃষ্টি— যেন প্রকৃতি নিজেই আমাদের বোকা বানাচ্ছে! সেই অনিশ্চয়তাকে উদযাপন করতেই সম্ভবত এই দিনটির উৎপত্তি।

ব্রিটেনে ১৮শ শতাব্দীতে এই প্রথা জনপ্রিয় হয়। স্কটল্যান্ডে তো আবার এই উদযাপন চলে দু’দিন ধরে। সেখানে দ্বিতীয় দিনটিকে বলা হয় ‘টেইলি ডে’, যেখানে মানুষের পেছনে ‘কিক মি’ (Kick Me) সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়াটা অন্যতম জনপ্রিয় প্র্যাঙ্ক।

তবে বর্তমানে ডিজিটাল দুনিয়ায় এই মজা অনেক সময় ভুয়ো খবরের রূপ নেয়। আবার অনেক বড় বড় সংস্থাগুলিও এই দিনে মজার সব ফিচার লঞ্চ করে। তবে মনে রাখবেন, চীন, উত্তর কোরিয়া বা সৌদি আরবের মতো দেশে এই প্রথা আইনত নিষিদ্ধ বা নিরুৎসাহিত করা হয় সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে। তাই এই দিন পরিবার বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে মজা করতেই পারেন,কিন্তু সেই মজা যেন কারোর বিপদের কারণ না হয় সেই বিষয় নজর রাখা জরুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *