Malda: ইন্টারভিউ নিয়ে চাকরি দেওয়া হল, তারপরই আসল খেলা শুরু, কী চলছে মালদহে? – Bengali News | Money taken from candidates after they were offered job, allegation of fraud in Malda
মালদহ: চাকরি দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা। প্রায় সাড়ে চার হাজার বেকার যুবক যুবতীর কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা নিয়ে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে মালদহের কালিয়াচকের এক বেসরকারি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছেন প্রতারিতরা। জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। এই নিয়ে আবার রাজ্যের শাসকদলকে নিশানা করেছে বিজেপি। তবে তৃণমূলের বক্তব্য, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
কালিয়াচকের সুজাপুরে অবস্থিত এক বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, জাতীয় সড়কের পাশে মালদহ মিশন হাসপাতাল নামে ওই নার্সিংহোম বেশ কিছুদিন ধরে তৈরি হওয়ার পর গত বছরের জানুয়ারি মাস থেকে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দেওয়া শুরু করে। বলা হয়, জেলায় নতুন হাসপাতাল খুলতে চলেছে। সেই জন্য প্রচুর কর্মসংস্থান হবে। হাসপাতালের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োগ হবে। চাকরির জন্য শূন্যপদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজার। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতে লেখা হয়, ৪০০ বেডের হাসপাতাল খুলছে।
এরপরই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকি ভিনরাজ্য থেকেও বেকার যুবক যুবতীরা চাকরির দরখাস্ত দিতে থাকেন। আর দরখাস্ত প্রদানকারী সবাইকে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়। নার্সিং, গ্রুপ ডি, টেকনিশিয়ান, সিকিউরিটি সহ বিভিন্ন পোস্টে কর্মী নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, ইউনিফর্ম ও ট্রেনিংয়ের জন্য দিতে হয় পাঁচ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা । প্রতারিতদের অভিয়োগ, প্রায় সাড়ে চার হাজার বেকার যুবক যুবতীর কাছ তোলা হয় এই টাকা। যা হিসেব করলে দেখা যাবে কয়েক কোটি টাকা তোলা হয়েছিল প্রতারিতদের কাছ থেকে।
ইন্টারভিউয়ের সময় নার্সিং চাকরির জন্য আসা যুবতীদের প্রশ্ন করা হয়, তাঁরা কত টাকা বেতন আশা করেন। কেউ ১২ হাজার, কেউ ১৩ হাজার বললে, তাঁদের নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ১৫ হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হবে। পাশাপাশি আরও অভিযোগ, ইন্টারভিউয়ের পর ড্রেসের জন্য ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া কারও কারও কাছ থেকে দ্রুত কাজে যোগ দেওয়ার জন্য আরও টাকা চাওয়া হয়। কারও কাছে ১০ হাজার, কারও কাছে ১৫, কারও কাছে ২০ হাজার টাকাও নেওয়া হয়। এবং বলা হয়, আগামী দুই মাসের মধ্যে তাঁরা কাজে যোগ দিতে পারবেন।
এদিকে দুই মাস থেকে এক বছর পার হয়ে গেলেও কাউকেই কাজে যোগ দিতে বলা হয়নি। এরপরই টনক নড়ে চাকরীপ্রার্থীদের। তাঁরা এরপর দলবদ্ধভাবে নার্সিংহোমে টাকা ফেরত চাইতে আসলে কোনও পাত্তাই দেওয়া হয় না। এমনকি অভিযোগ, উল্টে হুমকি দেওয়া হয়। এদিকে প্রতারিতরা সকলে কালিয়াচক থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁদের অভিযোগপত্র নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত প্রতারিত যুবক যুবতীরা জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে বিজেপির বক্তব্য, “এটা সভ্যভাবে প্রতারণা। এর পিছনে শাসকদলের মদত রয়েছে।” অন্যদিকে, শাসকদলের বক্তব্য, বেসরকারি ক্ষেত্রে চাকরির ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়া দরকার চাকরিপ্রার্থীদের। তবে প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে চাকরিপ্রার্থীদের আশ্বাস দিল তৃণমূল।