একটা ক্যাচ মিসই বিশ্বকাপে বাঁচিয়ে রাখল পাকিস্তানকে! – Bengali News | A catch miss saved pakistans world cup journey
কলকাতা: হার্শেল গিবস ম্যাচটা কি টিভিতে দেখছিলেন? যদি দেখেন, নিশ্চয়ই ২৭ বছর আগের দিনটা মনে পড়ে যাচ্ছিল। না, কলম্বোর সঙ্গে মেলানো যাবে না ওই ম্যাচকে। কিন্তু হার্শেল গিবস সে দিন স্টিভ ওয়ার ক্যাচ ফেলে না দিলে বিশ্বকাপটা অন্যরকম হতে পারত। ম্যাক্সওয়েল প্যাট্রিক যদি একই ভুল না করতেন, তাঁর দলের কাছেও অন্যরকম হত বিশ্বকাপের প্রথম দিনটা। ফাহিম আশরফ তখন ক্রিজে। ডাচদের বিরুদ্ধে ১১ বলে ২৩ দরকার। আগের বলে ছয় মেরেছেন, তবু নড়বড় দেখাচ্ছে। বিভ্রান্তও। তীব্র চাপে। হাঁটুর থেকেও কম উচ্চতায় এসেছিল লো ফুলটস। ফাহিম লোভ সামলাতে পারেননি। বৃষ্টিভেজা মাঠে ধরাও পড়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ফাহিম কি আর জানতেন, ম্যাক্সওয়েল প্যাট্রিক দু’বারের চেষ্টায় মিস করবেন? যদি ক্যাচটা ধরতে পারতেন কী হত? বল যখন হাওয়ায়, দুটো সম্ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছিল। এক, পাকিস্তান কি ম্যাচ শেষ হলেই বলবে, ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে! দুই, কলম্বো থেকে করাচি ফেরার টিকিটটা কেটে ফেলবে পিসিবি?
হতে হতেও অনেক কিছু হয় না। যেমন পাকিস্তান হারতে হারতে কোনও রকমে হার বাঁচাল। যদি না খাদের কিনারা থেকে ঘুরে না দাঁড়াত, লিখতে হত, গত বিশ্বকাপের মতো গ্রুপ লিগেই শেষ গ্রিন আর্মির কাহিনি। তার বদলে লিখতে হচ্ছে, শাহিন শাহ আফ্রিদি, বাবর আজমদের কপালে দুঃখ আছে। যদি নিজেদের বদলাতে না পারেন! নেদারল্যান্ডস ম্যাচ কিন্তু তাই বলে দিয়ে গেল!
নানা আঘাত-প্রতিঘাতের পর অবশেষে শুরু হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বয়কট বিতর্কের মাঝেই আজ প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল পাকিস্তান। বিপক্ষে স্কট এডওয়ার্ডের নেদারল্যান্ড। এই সেই নেদারল্যান্ড, যারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে নানা চমক উপহার দিয়েছে। ২০২২ সালে তারা পৌঁছেছিল বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্যায়ে। এই স্থান অধিকার আপাতত বিশ্বকাপে তাদের সেরা পারফরম্যান্স বলে ধরা হয়। অতীতে তারা হারিয়েছে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো হেভিওয়েট দলগুলিকে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবের মাঠে গ্ৰুপ এ-র প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। টসে জিতে বোলিং এর সিদ্ধান্ত নেন পাক অধিনায়ক সলমন আলি আগা। আজকের ম্যাচে পাক স্কোয়াডে ছিলেন না প্রতিশ্রুতিমান ফাস্ট বোলার নাসিম শাহ। স্পিন মন্ত্রেই ভরসা রেখেছিলেন সলমন। প্রথম ওভার থেকেই চালিয়ে খেলছিলেন ওপেনার মাইকেল লেভিট। বাউন্ডারি লাইনে তাঁর দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন শাহিন আফ্রিদি এবং বাবর আজমের জুটি। অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস করেন ২৯ বলে ৩৭ রান। তাঁর ইনিংসেই ভর করে ১৪৭ অবধি পৌঁছায় ডাচরা । বাঁ হাতি পেসার সলমন মির্জা নিয়েছেন তিনটি উইকেট। এক ওভার বল করেই দুই উইকেট তুলেছেন সায়িম আয়ুব।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সায়িম আয়ুব ও অধিনায়ক সলমনের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। “ওয়াঘা পারের বিরাট কোহলি” নামে খ্যাত বাবর আজম কবে নিজের ফর্ম ফিরে পাবেন, তা নিজেও হয়ত জানেন না। আজ করলেন ১৮ বলে মাত্র ১৫ রান। ইনিংসে রয়েছে মাত্র একটি বাউন্ডারি। স্লগ ওভারে মাত্র ১৬ রানের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে প্রথম ম্যাচেই হারের আশঙ্কায় ধুঁকতে শুরু করেছিল পাক লাইন আপ। সেখান থেকে দলকে টেনে তুললেন ফাহিম আশরাফ। তাঁর ১১ বলে ২৯ রানের ইনিংসই জয়ের ভিত গড়ে দেয়। সরণিতে ফেরাল পাকিস্তানকে। তিন বল বাকি থাকতেই তিন উইকেটে জিতলেন সলমনরা।
পাকিস্তানের পরের ম্যাচ আমেরিকার বিরুদ্ধে। আগামী ১৫ তারিখ তৃতীয় ম্যাচে এই কলোম্বোতেই মাঠে নামবে তারা । প্রতিপক্ষ সূর্যকুমারের ভারত। এই ম্যাচ ইতিমধ্যেই বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাক বোর্ড। ফলে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরুর আগেই দুই পয়েন্ট খুইয়ে পিছিয়ে পড়েছেন বাবররা। তার মধ্যে যদি প্রথম ম্যাচেই নেদারল্যান্ডের কাছে নতিস্বীকার করতে হত, তাহলে প্রথম ম্যাচেই বিদায়ঘণ্টা প্রায় বেজে যেত ওয়াঘা পারের দলের।