‘কাউকে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না’, ‘ধর্মীয় বিভাজন’ নিয়ে কী বললেন রহমান? – Bengali News | Ar rahman says never wished to cause pain amid communal remark row
বলিউড এবং ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহল নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে যে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল, অবশেষে তা নিয়ে মুখ খুললেন সংগীতের জাদুকর এ আর রহমান। অস্কারজয়ী এই সুরকার জানিয়েছেন, তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং কাউকে আঘাত করার কোনো অভিপ্রায় তাঁর ছিল না। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের অবস্থানের বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
কয়েকদিন আগে বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রহমান জানিয়েছিলেন, গত কয়েক বছরে হিন্দি ছবিতে কাজ করার প্রস্তাব আগের তুলনায় কমে গিয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির ক্ষমতার বিন্যাস বদলে গিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, বর্তমানে এমন কিছু মানুষের হাতে নিয়ন্ত্রণ চলে গিয়েছে যাঁরা ‘সৃজনশীল’ নন। এর মাঝেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এর নেপথ্যে কোনও ‘সাম্প্রদায়িক’ কারণ থাকলেও থাকতে পারে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই উত্তাল হয় সোশ্যাল মিডিয়া এবং চলচ্চিত্র জগতের একাংশ।
সমালোচনার মুখে পড়ে রহমান তাঁর ভিডিও বার্তায় জানান, সংগীত সবসময়ই তাঁর কাছে মানুষকে এক করার মাধ্যম। তিনি বলেন, “সংগীত সবসময়ই আমার কাছে সংস্কৃতিকে উদযাপন এবং সম্মান জানানোর পথ। ভারত আমার অনুপ্রেরণা, আমার শিক্ষক এবং আমার ঘর। আমি বুঝতে পারছি যে কখনও কখনও উদ্দেশ্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে, কিন্তু আমার লক্ষ্য সবসময়ই সংগীতের মাধ্যমে মানুষের সেবা করা এবং দেশকে সম্মানিত করা। আমি কাউকে কষ্ট দিতে চাইনি, আশা করি আমার আন্তরিকতা সবাই অনুভব করতে পারবেন।”
ভারতীয় হিসেবে তিনি গর্বিত উল্লেখ করে রহমান আরও বলেন, “আমি নিজেকে ধন্য মনে করি যে আমি একজন ভারতীয়। এই দেশ আমাকে সৃজনশীলতার স্বাধীনতা দিয়েছে এবং বহুস্বরের সংস্কৃতিকে উদযাপন করার সুযোগ করে দিয়েছে।”
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে রহমান তাঁর সাম্প্রতিক ও ভবিষ্যৎ কিছু প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পরিবেশিত ‘ঝালা’ বা ‘রুহ-ই-নুর’-এর মতো কাজ, নাগাল্যান্ডের তরুণ সংগীতশিল্পীদের নিয়ে স্ট্রিং অর্কেস্ট্রা তৈরি কিংবা সানশাইন অর্কেস্ট্রার মেন্টর হওয়া—এই প্রতিটি পদক্ষেপই তাঁর অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতার পরিচয় দেয়। এছাড়াও তিনি ভারতের প্রথম মাল্টিকালচারাল ভার্চুয়াল ব্যান্ড ‘সিক্রেট মাউন্টেন’ এবং হ্যান্স জিমারের সঙ্গে যৌথভাবে ‘রামায়ণ’-এর সংগীত পরিচালনার মতো বড় কাজগুলোর কথা উল্লেখ করেন।