North 24 Parganas: টোটো থেকে নামিয়ে তরুণীকে রাস্তায় ফেলে লাথি, ঘুষি; অভিযুক্ত তৃণমূল উপপ্রধানের ভাই – Bengali News | Woman beaten on road by her in laws in North 24 Parganas
কী বলছেন আক্রান্ত মহিলা?Image Credit: TV9 Bangla
দেগঙ্গা: টোটো থেকে নামিয়ে এক তরুণীকে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। রাস্তায় ফেলে মুখেও লাথি মারা হল। দু-একজন থামানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু, তাঁদের সরিয়ে ওই তরুণীকে ফের মারধর করা হল। পাশে কেঁদে চলেছে একটি শিশু। এমনই একটি মর্মান্তিক ভিডিয়ো সামনে এল। ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার। আর ওই তরুণীকে যিনি মারছেন, তিনি তৃণমূলের উপপ্রধানের ভাই। সম্পর্কে ওই তরুণীর নন্দাই তিনি। ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়েছে এলাকায়। আক্রান্ত তরুণীর অভিযোগ, গলায় ওড়না পেঁচিয়েও তাঁকে খুনের চেষ্টা করেছিলেন ননদ ও নন্দাই।
ঘটনাস্থল দেগঙ্গা থানার কার্তিকপুর এলাকা। আক্রান্ত তরুণীর নাম সাবিনা খাতুন। বয়স ২৭ বছর। সাবিনার দাবি, তাঁর স্বামী বছর দুই আগে এক মহিলার সঙ্গে অন্যত্র গিয়ে বসবাস শুরু করেন। তাঁকে এবং তাঁর পাঁচ বছরের শিশুর কোনও খরচ স্বামী কিংবা শ্বশুরবাড়ির কেউ দেন না। তিনি নিজে উপার্জন করে ছেলের পড়াশোনা এবং দু’জনের জীবনযাপন করেন। স্বামী চলে যাওয়ার পর থেকে শ্বশুর, শাশুড়ি তাঁর উপর অত্যাচার করেন বলে অভিযোগ। এদিনও তাঁকে মারধর করা হয়। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সাবিনা ছেলেকে নিয়ে একটি টোটোতে চেপে থানায় লিখিত অভিযোগ করতে আসছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাবিনার শাশুড়ি সেকথা তাঁর মেয়ে ও জামাইকে জানান। এরপরই সাবিনার ননদ ও নন্দাই পাপ্পু রাস্তায় টোটো থামান। টোটো থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে আনেন সাবিনাকে। তারপরই শুরু হয় এলোপাথাড়ি মারধর। রাস্তায় ফেলে বুট দিয়ে মুখেও লাথি মারেন পাপ্পু। অভিযোগ, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তরুণীকে খুনের চেষ্টা করেন ননদ ও নন্দাই। ঘটনায় ভয় পেয়ে কাঁদতে থাকে শিশুটি।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তরুণীকে উদ্ধার করে বিশ্বনাথপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে বারাসত জেলা হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। দেগঙ্গা থানায় ননদ, নন্দাই সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। জানা গিয়েছে, পাপ্পু সম্পর্কে চাঁপাতলা পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান হুমার ভাই। সেজন্যই কি পাপ্পু রাস্তায় ফেলে তরুণীকে মারার সাহস পেলেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দেগঙ্গা থানার পুলিশ।