Explained: Ready-To-Eat খাবার খেলে ক্যান্সার? – Bengali News | High intake of ultra processed foods increased risk of colorectal cancer
ব্যস্ততায় ভরা প্রত্যেকদিনের জীবনে ‘রেডি টু ইট‘ মিল এখন অনেকেরই বড় ভরসা। বাজার করার ঝক্কি নেই, কাটাকুটি, ধোয়াধুয়ি নেই। শুধু কিনে আনা প্যাকেট থেকে বার করো, গ্যাসে চাপাও বা মাইক্রোওয়েভে ঢুকিয়ে দাও। ব্যাস। ধোঁয়া ওঠা নুডলস থেকে আস্ত লাঞ্চ বা স্রেফ স্যালাড। সব-ই এখন শপিং মলে – ‘রেডি টু ইট’ সেকশনে দেদার বিক্রি হচ্ছে।
কিন্তু এই ২ মিনিটের নুডলস, ওটস, মাছ, মাংসে-ই ওঁত পেতে বসে বিপদ। নয়া এক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। গ্রেটার বস্টনের অলাভজনক সংস্থা ‘মাস জেনারেল ব্রিগ-হ্যাম’-এর গবেষণায় উঠে এসেছে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। সারাদিনে দশ চামচের বেশি ‘রেডি টু ইট’ বা ‘আল্ট্রা প্রসেসড’ খাবার ডেকে আনছে কোলন ক্যান্সারের মতো বিপদ। ৫০ বছরের নিচে যাঁদের বয়স, সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে তাঁরাই। কারণ, ছাত্রছাত্রী থেকে যুবক-যুবতী বা চাকুরীজীবি– এই ধরণের দ্রুত রেডি টু ইট খাবারের সবচেয়ে বড় ক্রেতা তাঁরাই।

২০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ৩০ হাজার মহিলা-র উপর এই গবেষণা চলেছে। গবেষণায় অংশ নেওয়ার আগে ও পরে তাঁদের প্রত্যেকের অন্তত দুটো করে এন্ডোস্কোপি হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ চামচের বেশি যাঁরাই রেডি টু ইট খাবার খেয়েছেন তাঁদের দেহে অন্যদের তুলনায় ৪৫% বেশি কোলন ক্যান্সারের আগাম লক্ষণ দেখতে পাওয়া গেছে। ২৭৮৭ জনের দেহে কোলন ক্যান্সারের আগাম আঁচ টের পাওয়া গেছে। অথচ, যাঁরা ৩ চামচ করে এই ধরণের রেডি টু ইট নুডলস, ভাজা বা ওটস খেয়েছেন, তাঁদের শরীরে ক্যান্সারের লক্ষণ সেভাবে দেখা যায়নি। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের গড়ে প্রত্যেকদিন সাড়ে পাঁচ চামচ করে রেডি টু ইট খাবার দেওয়া হয়েছিল। যা তাঁদের প্রতিদিনের খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করা ক্যালোরির ৩৫%। যা আমেরিকায় প্রতিদিন নাগরিক পিছু রেডি টু ইট খাবার খাওয়ার প্রবণতার প্রায় সমান।
গবেষকরা বলছেন, রেডি টু ইট যে কোনও খাবারেই-
- বেশি চিনি
- মাত্রাতিরিক্ত নুন
- স্যাচিউরেটেড ফ্যাট
- বাড়তি সোডিয়াম
- খাদ্যগুণ নেই বললেই চলে
- অন্যান্য ক্ষতিকারক রাসায়নিক থাকে

ডাক্তাররা এও বলছেন, এই ধরণের খাবারে আসক্তি বাড়ানোর মতো রাসায়নিকেরও উপস্থিতি থাকে। অবিলম্বে যুবকদের এই ধরণের খাবারের প্রতি নির্ভরতা কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের যুক্তি, যত আল্ট্রা প্রসেসড খাবার খাবেন, কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি ততই বাড়বে। আশঙ্কার জায়গা আরও আছে। শুধু এই ধরণের খাবার থেকেই ক্যান্সারের বিপদ বাড়ে না। তার সঙ্গে মেটাবলিক ডিজ-অর্ডার, জেনেটিক্স ও জীবনযাত্রা- সবমিলিয়ে ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যায়। আমেরিকাতে সবরকমের ক্যান্সারের মধ্যে কোলন ক্যান্সার তৃতীয় স্থানে রয়েছে। লাফিয়ে লাফিয়ে মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতি বছর। ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, এই এক বছরে ১,৫৪,০০০ নতুন ক্যান্সার আক্রান্ত ধরা পড়েছে মার্কিন মুলুকে, যার মধ্যে মৃতের সংখ্যা ৫৩,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা চিকিসকদের।