Arjun Singh: ‘ব্যারাকপুরের ভোটার হয়েছে ৪০০-র বেশি পাক নাগরিক, কাউন্সিলরও হয়েছে’, বিস্ফোরক অর্জুন – Bengali News | ‘over 400 Pakistani nationals reside in Barrackpore’, says BJP leader Arjun Singh
ব্যারাকপুর: বিশেষ নিবিড় সমীক্ষায় (SIR) কাদের নাম বাদ যাবে? বেশ কিছুদিন ধরেই এই নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন বাংলা-সহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর শুরুর ঘোষণার পর রাজনীতির পারদ আরও চড়েছে। এই আবহে মঙ্গলবার ব্যারাকপুরের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং দাবি করলেন, শুধু ব্যারাকপুরেই ৪০০-র বেশি পাকিস্তানের নাগরিক রয়েছেন। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাগরিক কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বলেও তাঁর অভিযোগ। এদিন বীরভূমের তৃণমূল নেতা কাজল শেখকেও আক্রমণ করেন তিনি।
বিজেপি নেতারা বারবার বলছেন, এসআইআর হলে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ যাবে। আবার তৃণমূল নেতারা বলছেন, একজন বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে অর্জুন সিং বলেন, “এসআইআর তো বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য নয়। এসআইআর হচ্ছে অবৈধ ভোটার, মৃত ভোটার ও একাধিক জায়গায় নাম রয়েছে এমন ভোটার, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য। কাজাখস্তান থেকে আসা কাবুলিওয়ালাদের নাম কেন থাকবে ভোটার তালিকায়? বাংলাদেশে ভোটার তালিকায় নামা থাকা লোকের কেন এখানেও নাম থাকবে? ভারতের নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে সব তথ্য নিয়ে এসেছে। তাদের নাম যদি বাদ দেয়, তাহলে বৈধ ভোটার কোথা থেকে হল? এসব নাটক।”
অবৈধ ভোটারদের তৃণমূল বাঁচাতে পারবে না জানিয়ে অর্জুন বলেন, “বাংলাদেশি ছেড়ে দিন, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের শুধু ১৬, ১৭ এবং ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৪০০-র বেশি পাকিস্তানের নাগরিক রয়েছেন। ব্যারাকপুরে পাকিস্তানের এক নাগরিক কাউন্সিলর হয়েছেন। শেখ রাজা তাদের ভোটার তালিকায় নাম তুলে দিয়েছেন। শেখ রাজা নিজে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। আর একজন কাউন্সিলর নিজে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। শেখ রাজা যে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তা লিখিত রয়েছে আমাদের কাছে।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে তিনি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানালেন অর্জুন।
অর্জুনকে পাল্টা খোঁচা দিয়ে জগদ্দলের তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম বলেন, “আফগানিস্তান থেকে যেসব কাবুলিওয়ালারা এখানে ব্যবসার জন্য আসেন, তাঁরা কেউ ভোটার নন। কিন্তু, তাঁদের রিকভারি এজেন্ট অর্জুন সিং। তাঁরা কারও কাছ থেকে টাকা তুলতে না পারলে অর্জুন সিং সেই টাকা তুলে দেন। তার জন্য কমিশন নেন। এইসব ভুলভাল কথা বলে লাভ নেই। আর আমরা বলেছি, একজন বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে আমরা আন্দোলনে নামব।” একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অর্জুন সিং যখন ভাটপাড়ার বিধায়ক ছিলেন, তখন কেন এই কথাগুলি বলেননি? অর্জুন তৃণমূলে আসার চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেন সোমনাথ শ্যাম।
এদিন বীরভূমের তৃণমূল নেতা কাজল শেখকেও আক্রমণ করেন অর্জুন। তিনি বলেন, “কাজল শেখ নিজেই তো বাংলাদেশি নাগরিক। ওকে পুশব্যাক করাবই আমরা। ২০০২ সালে দেখবেন ওর নাম নেই। ওর নাম কাটা যাবে।” পাল্টা কাজল বলেন, “গিরগিটির কথা অত গুরুত্ব দিতে নেই।”