Trinamool Congress: দলের নেতার বিরুদ্ধে দলীয় কার্যালয় ‘চুরি’র অভিযোগ! চাপানউতোর আরামবাগে – Bengali News | Party leader accused of ‘stealing’ from party office! Tensions rise in Arambagh
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল Image Credit: TV 9 Bangla
আরামবাগ: ভোটের আগে দলের নেতার কাজেই অস্বস্তিতে শাসকদল। আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পলাশ রায়ের বিরুদ্ধেই উঠছে গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ, দলীয় কার্যালয় একেবারে নিজের নামে করে নিয়েছেন ওই নেতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরামবাগ, খানাকুলের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য। ইতিমধ্যেই শাসক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এই মর্মে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন ক্ষুব্ধ কর্মীরা।
আরামবাগ-কলকাতা ২ নম্বর রাজ্য সড়কের পাশে গড়বাড়িতে অবস্থিত এই দলীয় কার্যালয়টি বেশ পুরনো। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের দাবি, বাম আমল থেকেই এই ভবনটি তৃণমূলের হাতে রয়েছে পরিচিত। ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে থেকেই পঞ্চানন পাত্রের মতো আদি নেতাদের হাত ধরেই এটি গড়ে ওঠে। বর্তমানে মায়াপুর ২ নম্বর অঞ্চলের যাবতীয় দলীয় কাজকর্ম এখান থেকেই পরিচালিত হয়। অভিযোগ, ২০২১ সালের পর প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা খরচ করে এই কার্যালয়টি নতুন করে তৈরি করা হয়। তৎকালীন ব্লক সভাপতি হিসেবে পলাশ রায় কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ সাহায্যও নিয়েছিলেন। সেই টাকা সরাসরি তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল বলে দাবি কর্মীদের। এখন একতলা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এই সুসজ্জিত ভবনটি সম্প্রতি পলাশ রায় নিজের নামে করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।
সূত্রের খবর, যে জমির উপর এই পার্টি অফিস তৈরি তা ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর পার্থ রায়ের কাছ থেকে ‘দানপত্র’ হিসেবে নিজের নামে লিখিয়ে নেন পলাশ রায় (দলিল নং- ০৮০১৩)। শুধু তাই নয়, নিজের নামে মিউটেশন ও কনভার্সন করিয়ে তিনি বর্তমানে রাজ্য সরকারকে খাজনাও দিচ্ছেন।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই খানাকুলের বিভিন্ন এলাকায় পলাশ রায়ের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়েছে। সেখানে সরাসরি তাকে ‘পার্টি অফিস চোর’ কটাক্ষও করা হচ্ছে। আইএনটিটিইউসি-র কার্যালয়ের সামনেও একই ধরনের পোস্টার দেখা গিয়েছে। চলছে রাজনৈতিক তরজা।
এই প্রসঙ্গে খানাকুলের বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ এবং সিপিএম নেতা ভাস্কর রায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। বিরোধীদের মতে, তৃণমূলের সংস্কৃতিই হলো দখলদারি, যা এখন নিজের দলের অন্দরেও শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, খানাকুল ১ নম্বর ব্লকের যুব তৃণমূল সভাপতি রাজীব ঘোষ সহ কর্মীরাও এই ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ। যদিও পুরো বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন অভিযুক্ত পলাশ রায়। ক্যামেরার সামনে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি।