West Bengal Joint Entrance: রাজ্য ছাড়ল জয়েন্টের প্রথম ১০, মেধা হারাচ্ছে বাংলা? - Bengali News | West bengal joint entrance The top 10 of the joint left the state, is Bengal losing talent? - 24 Ghanta Bangla News
Home

West Bengal Joint Entrance: রাজ্য ছাড়ল জয়েন্টের প্রথম ১০, মেধা হারাচ্ছে বাংলা? – Bengali News | West bengal joint entrance The top 10 of the joint left the state, is Bengal losing talent?

Spread the love

মেধা হারাচ্ছে বাংলা? Image Credit source: TV9 Bangla

কলকাতা: নিজের রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর কি আস্থা নেই বাংলার পড়ুয়াদের? ঠিক চার মাসের ব্যবধান। জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিয়ে বসেছিলেন কৃতীরা। চার মাস পর শুক্রবার বেরল জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফল। তাও বহু আদালতের গণ্ডি পেরিয়ে। তার মধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, এতদিন কি অপেক্ষা করে বসে থাকবেন কৃতীরা? নাকি ভিন রাজ্যে পাড়িয়ে দেবেন!   রেজাল্ট তো বেরল, আর সত্যি হল আশঙ্কা। কারণ ততক্ষণে বাংলার কৃতী ছাত্রছাত্রীরা ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। জয়েন্ট এন্ট্রান্সে ফল প্রকাশে দেরি হওয়ায় অন্য রাজ্যে বাংলার মেধা। মেধাতালিকায় প্রথম ১০ জনই কেউ পড়ছেন IIT খড়্গপুর, কেউ আবার একেবারেই ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়ে সবাই রাজ্যের বাইরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন। মেধাতালিকার পরের দিকেই একই হাল। উচ্চশিক্ষার জন্য দিল্লি, মুম্বই, পুণে, বেঙ্গালুরুতে চলে গিয়েছেন।

জয়েন্টের পরীক্ষার নির্ধারিত সময়

প্রতি বছরই  উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরে ও তার ফল প্রকাশের মধ্যবর্তী একটি সুনির্দিষ্ট সময়ে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেই হিসাবে এপ্রিল মাসে এবারও পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে ২৮ এপ্রিল পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। ফল বেরিয়েছিল ৬ জুন। ২০২৩ সালে ৩০ এপ্রিল পরীক্ষা নেওয়া হয়। ফল বেরিয়েছিল ১৭ জুন। ২০২২ সালেও ঠিক এই তারিখেই পরীক্ষা হয়েছিল। কিন্তু এবার পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর চার মাস পেরিয়ে যায়, কিন্তু ফল ঠিক কবে বেরোতে তা নিয়েই চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পরীক্ষা দেওয়ার পর দু’মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরই উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছিল কৃতী ছাত্রদের।

কেন ভিন রাজ্যে কৃতীরা?

কিন্তু এর মাঝেই বেরিয়ে যায় সর্বভারতীয় JEE মেইন ও JEE অ্যাডভান্স পরীক্ষার ফল। বলাই বাহুল্য, কৃতীরা আর অপেক্ষায় থাকেননি। সাধারণত বাংলায় যাঁরা জয়েন্ট পরীক্ষা দেন, তাঁদের কাছে প্রথম অপশনই হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু এবারের পরীক্ষার ফল দেরি হওয়ায় অনেক কৃতীই রয়েছেন, যাঁদের স্বপ্ন ছিল যাদবপুরে পড়বেন, তাঁরাও পাড়ি দিয়েছেন ভিন রাজ্যে।  সর্বভারতীয় প্রবেশিকার ফল প্রকাশের পরে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি কলেজে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। আর তাতেই এই চার মাসের ব্যবধানে বাংলা ছাড়া কৃতীরা।

OBC জটেই দেরি

মূলত ওবিসি জটেই আটকে ছিল জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফল। রাজ্য সরকারের নয়া ওবিসি বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতাদেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। ফলে রাজ্যে জয়েন্টের ওবিসি মেধা তালিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আদালতের নির্দেশ ছিল, পুরনো নিয়ম অনুযায়ী, ৭ শতাংশ সংরক্ষণ করতে হবে। রাজ্য চেয়েছিলেন ১৭ শতাংশ সংরক্ষণ হোক! আর এর ফলে সংরক্ষিত ও সাধারণ শ্রেণিভুক্ত পড়ুয়াদের জন্য নির্দিষ্ট আসন সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড। কারণ  হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের পর্যবেক্ষণ,  ৬৬টি গোষ্ঠী ও সাত শতাংশ সংরক্ষণের নীতি নিয়ে কাজ চালানো যেতে পারে। একবার দিন নির্ধারিত করার পরও ফল প্রকাশ করতে পারেনি বোর্ড।

‘বিকাশভবনে ধর্নার হুঁশিয়ারি’

বিষয়টি নিয়ে সরব হন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করেন। রাজ্যপাল তথা রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখাও করেন তিনি। গত ১৯ অগস্ট সাংবাদিক বৈঠক করেই শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, “এই সপ্তাহের মধ্যে ভর্তির জট না খুললে, আগামী সপ্তাহে অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে দিনভর বিকাশ ভবনে ধর্নায় বসব।” কেন বাংলার কৃতীদের বাইরে যেতে হবে, তা নিয়েও সরব হন তিনি।

মেধাতালিকার প্রথম সারির সকলেই বাইরে

শুভেন্দুর হুঁশিয়ারির তিন চারদিনের মধ্যে ফল প্রকাশিত হয়। শুক্রবার দুপুরে ফলাফল প্রকাশের পর এবার কাউন্সেলিং-এর অপেক্ষা। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে চাইছে বোর্ড। কিন্তু দেখা গেল, মেধাতালিকায় প্রথম সারির প্রায় সকলেই পাড়ি দিয়েছেন অন্যত্র। মেধাতালিকায় প্রথমে থাকা অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী ভর্তি হয়েছেন খড়্গপুর আইআইটি-তে। দ্বিতীয় সাম‍্যজ‍্যোতি বিশ্বাস ভর্তি হয়েছে বম্বে আইআইটি-তে। তৃতীয় স্থানাধিকারী দিসান্ত বসু আইআইএসসি, বেঙ্গালুরুতে ভর্তি হয়েছেন, চতুর্থ অরিত্র রায় ভর্তি হয়েছেন আইআইটি বম্বেতে। পঞ্চম স্থানাধিকারী তৃষাণজিত দলুই আইআইটি বম্বেতে ভর্তি হয়েছে। ষষ্ঠ সাগ্নিক পাত্র, সপ্তম সম্বিত মুখোপাধ‍্যায়, অষ্টম অর্চিস্মান নন্দী খড়্গপুর আইআইটি-তে ভর্তি হয়ে গিয়েছে। দশম স্থানাধিকারী অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভর্তি হয়েছেন খড়্গপুরে। এছাড়া নবম স্থানাধিকারী প্রতীধ ধানুকা আইআইটি কানপুরে ভর্তি হয়েছেন।

কী বলছেন কৃতীরা?

ফল বেরোতে দেরি হওয়াতে যে সমস্যা হয়েছে, তাতেই যে তাঁরা আগে ভর্তি হয়ে গিয়েছেন, স্বীকার করছেন কৃতীরা। মেধাতালিকায় প্রথমে থাকা অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী TV9 বাংলাকে ফোনে জানান, “আমরা JEE অ্যাডভান্সের রেজাল্ট বেরিয়ে গিয়েছিল, তাই ওটাতেই অ্যাডমিশন নিয়ে নিয়েছিলাম। ডেভলপমেন্ট-কোডিং, ওটা নিয়েই এগোতে চাই।”

মেধাতালিকায় দশম অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “আইআইটি-ই আমার টার্গেট ছিল। কিন্তু রেজাল্ট বেরোতে দেরি হওয়ায় অনান্য ছাত্রদেরও সমস্যা হয়েছে। অনেকেরই অ্যাকাডেমিক লাইফ ক্ষতি করেছে।” জয়েন্টে দ্বিতীয়  সাম্যজ্যোতির বাবা বললেন, “ওর প্রথম চয়েস ছিল আইআইটি বম্বেতে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়বে। সেটা পূরণ হয়েছে। তবে যথাসময়ে রেজাল্ট বেরোলে অনেকেই ভাল হত।”

‘সরকারের গড়িমসি’

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্য়াপক নন্দিনী মুখোপাধ্যায় বলেন, “এই সমস্ত ক্ষেত্রে যদি তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, একটা কলেজে ভর্তি হয়ে যান, আইআইটি, এনআইটি, বা বেসরকারি কলেজে ভর্তির খরচ অনেক বেশি। তাঁকে তো একটা টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হয়েছে। তারপর তাঁকে সেখানে থেকে ফিরিয়ে আনাও যে কোনও পরিবারের পক্ষে খুবই কষ্টের। এই ঘটনা যে ঘটবে, সেটা আমরা অনেকদিন ধরে বলে আসছিলাম। কোনওমতে ফলপ্রকাশ করার দরকার ছিল, তারপর কাউন্সিলিংয়ের সময়ে ভাবা যেত। সরকার সেটা মানেনি, গড়িমসি করেছে। ”

শিক্ষামন্ত্রী-উবাচ

যদিও শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর দাবি, বাংলাতেই ভিন রাজ্য থেকে পড়ুয়ারা পড়তে আসছেন। তিনি বলেন, “আমি তো তালিকা সামনে এনেছি, কতজন ছাত্রছাত্রী বাইরে থেকে আমাদের রাজ্যে এসেছে। গুজরাটে খোঁজ নিয়ে দেখুন, সেখানে ভর্তিপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কিনা। আমাদের রাজ্যে কতজন বাইরে থেকে পড়তে আসছে। আমাদের রাজ্য থেকে বাইরে পড়তে বরাবরই যায়, নতুন নয়। ফলে এটা ভিত্তিহীন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *