Jalpaiguri-Train: নীচে খরস্রোতা তিস্তা, ট্রেনের তলায় হামাগুড়ি দিয়ে সহ চালক যা করলেন, কুর্নিশ জানাল রেল – Bengali News | Rail co pilot will get award for doing this work with life risk in Jalpaiguri
এই সেই ট্রেনের সহ চালকImage Credit source: TV9 Bangla
জলপাইগুড়ি: প্রায় ১০০ মিটার ব্রিজে ট্রেনের তলায় হামাগুড়ি দিয়ে ভালব জুড়লেন ট্রেনের সহ চালক। পুরস্কৃত করার ঘোষণা ডিআরএমের। জলপাইগুড়িতে তিস্তা নদীর উপর সেতুতে এই ঘটনা ঘটে। চালক ঝুঁকি নিয়ে কীভাবে ট্রেনের তলায় কাজ করলেন, সেই ভিডিয়ো প্রকাশ করল রেল। এই ঘটনার জেরে প্রায় ৪৫ মিনিট দেরিতে চলল এনজেপি গামী বি জি প্যাসেঞ্জার। কুর্নিশ জানাল উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশন।
তিস্তা ব্রিজের ঠিক পরই জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন। ময়নাগুড়ির জল্পেশ মন্দির শিবতীর্থ হিসেবে পরিচিত। সেখানে যেতে হলে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে নামলে যাত্রীদের সুবিধে হয়। কিন্তু তারও আগে তিস্তা ব্রিজের কাছে নামতে পারলে প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ কমে যায় শিব ভক্তদের। এছাড়া, তিস্তা নদীর জল নিয়ে জল্পেশ মন্দিরে যাওয়ার পুরনো রীতি রয়েছে। সেই কারণেও ওই জায়গাটা পছন্দ শিবভক্তদের।
এক সময় শ্রাবণ মাস জুড়ে পূণ্যার্থীদের সুবিধের জন্য তিস্তা ব্রিজের কাছে বিভিন্ন ট্রেন এক থেকে দু’মিনিট দাঁড় করাত ভারতীয় রেল। কিন্তু স্টেশন ছাড়া বেআইনিভাবে ট্রেন দাঁড় করানো সম্প্রতি বন্ধ করে দিয়েছে রেল।
রবিবার বি জি প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি ব্রিজের একেবারে মাঝখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। একাধিক বগিতে চেন টানার ফলে ৩ ও ৫ সহ বগিগুলির নীচে ভাল্ব খুলে যায়। এরপরই সেতুর মাঝামাঝি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতে রেল ব্রিজে ট্রেনের তলা দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে গিয়ে গিয়ে সব খুলে যাওয়া বগিতে ভাল্ব জুড়ে দেন সহ চালক কুমার সৌরভ।
কেউ কেউ আবার সেই সুযোগে ব্রিজের বাইরে থাকা বগি থেকে নেমে তিস্তা নদীতে জল তুলে আনেন। সেখান থেকে জল নিয়ে জল্পেশ মন্দিরে রওনাও দেন তাঁরা।
রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের ডিআরএম অমরজিৎ গৌতম পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “এই রকম ঘটনা মাঝেমধ্যেই হচ্ছে। কখনও কাউকে ধরা যাচ্ছে, আবার কাউকে আমরা ধরতে পারছি না। তবে রবিবারের ঘটনা নজির বিহীন। ওই সহ চালককে পুরস্কৃত করব আমরা। তার কারণ খরস্রোতা তিস্তা নদীর ব্রিজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খুলে যাওয়া ভাল্ব জুড়েছেন তিনি।”