নাবালিকা ছাত্রীর শ্লীলতাহানি, বীরনগরে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা, পকসো আইনে মামলা - 24 Ghanta Bangla News
Home

নাবালিকা ছাত্রীর শ্লীলতাহানি, বীরনগরে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা, পকসো আইনে মামলা

কসবাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের নাবালিকা নির্যাতনের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গেল নদিয়ায়। এবার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে বীরনগরের ওই তৃণমূল নেতা ও পুরসভার অস্থায়ী কর্মী দীপঙ্কর সরকারকে গ্রেফতার করেছে তাহেরপুর থানার পুলিশ। অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘শিশু ধর্ষণ করার অপরাধে আমার এই শাস্তি’, পুরোহিতকে ঘোরানো হল দাঁতনে

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীপঙ্কর বীরনগরে তৃণমূলের এসসি-ওবিসি সেলের সভাপতি পদে ছিলেন। পাশাপাশি এলাকার একাধিক ছাত্রছাত্রীকে পড়াতেন তিনি। অভিযোগ, সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী তাঁরই ছাত্রী ছিল। দীর্ঘ তিন বছর ধরে দীপঙ্করের কাছে পড়ছিল মেয়েটি। গত ২ জুলাই ওই ছাত্রী প্রতিদিনের মতোই পড়তে যায় তার বাড়িতে। অভিযোগ, সেদিন অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের ছুটি দিয়ে মেয়েটিকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন দীপঙ্কর। বাকিরা চলে গেলে ফাঁকা ঘরে সেই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন তিনি। কোনওভাবে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে সোজা বাড়ি ফিরে আসে নাবালিকা এবং মায়ের কাছে সব খুলে বলে।

নির্যাতিতার মা জানান, তাঁর মেয়ে ভয় আর লজ্জায় কাঁদতে কাঁদতে সব বলে দেয়। শুনে শিউরে উঠেছিলেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, ওই শিক্ষক আগেও বেশ কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে এরকম করেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য কেউ মুখ খোলেনি। নির্যাতিতা ছাত্রীর মাও চুপ ছিলেন। পরে সাহস জোগাড় করে নির্যাতিতার পরিবার থানায় অভিযোগ জানায়। রবিবার তাহেরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন রানাঘাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

স্থানীয়রা জানান, তৃণমূল নেতৃত্বের আশীর্বাদে পুরসভায় অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন দীপঙ্কর। রাজনীতির ছত্রছায়াতেই এলাকায় দাপট রয়েছে তাঁর। এই ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে। বিজেপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুজন বালার কথায়, এরা সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। কসবাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এদের প্রতিরোধে মানুষকেই রাস্তায় নামতে হবে। তবে ঘটনার নিন্দা করে জেলা তৃণমূল সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর ওই নেতাকে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলে এমন কাজকে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ যা করার করছে। স্থানীয়রা চাইছেন, শুধু গ্রেফতার নয়, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করতে সাহস না পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *