Suicide: ‘আমি লঙ্কা-পিঁয়াজ বেচি,এত টাকা কীভাবে পাব? ছেলেটা শুনল না…কিনে দিতে হবে মানে হবেই, তারপরই…’, হাউহাউ করে কেঁদে হাড়হিম অভিজ্ঞতা শোনালেন এক বাবা – Bengali News | One person committed suicide in Nadia
নাকাশিপাড়া: বাবার সামান্য ব্যবসা রয়েছে। আর্থিক অবস্থা ততটাও বেশি নয়। কিন্তু ছেলে আচমকা আবদার করেন দামি বাইকের জন্য। কিন্তু এত সামর্থ্যই বাবার। সেই প্রথমেই না বলেছিলেন ছেলেকে। আর তারপরই চরম খেসারত দিতে হল তাঁকে….।
নদিয়ার নাকাশিপাড়া থানার খিদিরপুরের বাসিন্দা তপন সাহা। বেথুয়া ডহরি মহাপ্রভুর রোডে তাঁর একটি মুদি দোকান রয়েছে। সেই দোকান চালিয়েই বাবা আর ছেলে ঋক সাহার সংসার চলে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ঋক অষ্টম শ্রেণী অবধি পড়াশোনা করেছে। পড়াশোনায় মনযোগ না থাকায় পরবর্তীতে ছেড়ে দেন। এরপর বেসরকারি পানীয় জল পরিবহনের গাড়ি চালাতে শুরু করেন তিনি।
তপনবাবুর দাবি, সম্প্রতি ঋক তাঁকে একটি দু’লক্ষ টাকার বাইক কিনে দিতে বলেন।তখন তাঁকে অনেক বোঝান তাঁর বাবা। আর্থিক অবস্থার কথাও জানান। কিন্তু তিনি নাছোড়বান্দা। গাড়ি কিনে দিতেই হবে তাঁকে। এই নিয়ে মনোমালিন্য হয় বাবা-ছেলের মধ্যে। অভিযোগ, তারপর মানসিক অবসাদে ঘরে ঢুকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়ে তিনি। তাঁর পরিবারের লোকজন সেখান থেকে উদ্ধার করে বেথুয়াডহরী হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। একমাত্র পুত্রকে হারিয়ে শোকাহত তাঁর বাবা। মৃতের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য শক্তিনগর হাসপাতালে।
তপনবাবু বলেন, “ছেলে গাড়ি কেনার জন্য বায়না করেছিল। আমি লঙ্কা-পিঁয়াজ বেচি। কোথা থেকে এত টাকা পাব? আমি যদি তোর নামে ব্যাঙ্ক লোন তুলি তাতেও টাকা পাবি না কারণ আঠারো বছর হয়নি। কিন্তু ওকে গাড়ি এই মুহূর্তেই কিনে দিতে হবে। রাতে বাড়ি এসে বলছে তুমি গাড়ি কিনে দেবে না? তারপর দেখি ঘরের ভিতর ঢুকে যায়। ঘরবন্ধ হয়ে আছে। ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলতেই দেখি আর নেই।”
