ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন? পাঁশকুড়া চিপস কাণ্ডে একের পর এক খটকা! - 24 Ghanta Bangla News
Home

ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন? পাঁশকুড়া চিপস কাণ্ডে একের পর এক খটকা!

Spread the love

পাঁশকুড়ার চিপস কাণ্ডে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্য়কর সব তথ্য। যাতে পুলিশে তদন্তের মোড়ও ঘুরে যেতে পারে বলে অনুমান করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার শুভঙ্কর দীক্ষিত ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু হওয়ার আগে পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহ মূলত একমুখী ছিল। কিন্তু, প্রয়াত ছাত্র কৃষ্ণেন্দু দাসের মা সুমিত্রা দাস পাঁশকুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর, পুলিশ তদন্তে নামতেই সামনে আসে একাধিক ‘মিসিং লিঙ্ক’! একের পর এক উঠতে থাকে নানা প্রশ্ন! প্রকাশ্যে আসে নানা খটকা!

প্রথম খটকা:

ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কৃষ্ণেন্দুর ‘সুইসাইড নোট’ বলে যেটিকে উপস্থাপিত করা হয়েছে, সেটি কি আদৌ তার লেখা? নাকি অন্য কেউ সেটা লিখেছিলেন?

এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন মৃত ছাত্রের দিদি ও মা। ‘এই সময় অনলাইন’ অনুসারে – কৃষ্ণেন্দুর দিদির দাবি, ‘নাম, ক্লাস ও রোল নম্বর সম্ভবত আগে লেখা। স্কুলে অথবা টিউশনে তাড়াহুড়ো করে লেখা। তাই লেখাটি খারাপ। যখন আমার ভাই সুইসাইড নোট লিখেছিল তখন বাড়িতে কেউ ছিল না। অনেকটা সময় ওর হাতে ছিল। অপমানে, অভিমানে কষ্ট পেয়ে ও যত্ন করে লিখে যায়!’

অন্যদিকে, কৃষ্ণেন্দু মা এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে উলটে অভিযোগের সুরে বলেন, ‘আমার ছেলে চলে গেল। অভিযুক্তকে আড়াল করা জন্য এখন এই সব অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তদন্তকে উল্টো পথে চালনা করার জন্য অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার বিভিন্ন লোককে দিয়ে এসব প্রচার করাচ্ছেন।’

পুলিশ অবশ্য এসব দাবি, পালটা দাবির মধ্যে নেই। সূত্রের খবর, তারা হস্তরেখা বিশারদকে নিয়ে ওই সুইসাইড নোট পরীক্ষা করানোর কথাই ভাবছে।

দ্বিতীয় খটকা:

এই ঘটনায় একেবারে প্রথম থেকেই ‘ভিলেন’ করা হয়েছে অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার শুভঙ্কর দীক্ষিতকে। দাবি করা হয়েছিল, সে নাকি সাইকেলে সওয়ার কৃষ্ণেন্দুর পিছনে মোটরবাইক নিয়ে তাড়া করেছিল, তাকে অপমান করেছিল, ভয় দেখিয়েছিল, কান ধরে ওঠবোস করিয়েছিল! কিন্তু, সেই ঘটনার সাক্ষী কে? সেটা এখনও স্পষ্ট নয়।

বরং, যে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, কৃষ্ণেন্দুর মা সুমিত্রাই তাকে সকলের সামনে শাসন করছেন। ছেলের গালে চড় মারছেন! উলটে সেই ফুটেজে শুভঙ্করকেই দেখা গিয়েছে মায়ের শাসন থেকে ছোট্ট ছেলেকে আড়াল করতে! তাহলে?

তৃতীয় খটকা:

কৃষ্ণেন্দু ‘চিপসের প্যাকেট চুরি করেছে’ – একথা রটাল কে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই সামনে আসছে একটি নাম – শ্য়ামাপদ ভুঁইঞা। শ্যামাপদকে এলাকার লোকজন নাকি ‘জামাই’ বলে ডাকেন। কৃষ্ণেন্দু এবং শুভঙ্কর – দু’জনের পরিবারের তরফেই এই জামাইকে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। অথচ, ঘটনার পর থেকে এলাকায় নাকি তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

কৃষ্ণেন্দুর মা সুমিত্রার দাবি, শ্যামাপদই ‘আমাকে এসে জানিয়েছিল, তোমার ছেলেকে মোটর সাইকেল নিয়ে দোকানদার ধাওয়া করেছে।’ এরপরই নাকি সুমিত্রা কৃষ্ণেন্দুর দোকানে ছুটে আসেন। সেখানে ছেলেকে শাসন করেন।

আবার শুভঙ্করের স্ত্রী বলেন, ‘আমার স্বামী কাউকে গিয়ে বলতে যায়নি, ও চোর বা ও কিছু করেছে। ওই শ্যামই গিয়ে ওর বাবা-মাকে গিয়ে বলেছে!’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *