Bankura: দীপাবলির আলোর উৎসবে দুর্গাপুজোয় মেতে উঠলেন ওঁরা | Why This Bankura Family Celebrates Durga Puja During Kali Puja
বাঁকুড়ায় কালীপুজোর দিন দুর্গাপুজোImage Credit: TV9 Bangla
বাঁকুড়া: দীপান্বিতা অমাবশ্যায় দেশজুড়ে যখন কালীপুজোর আরাধনা এবং দীপাবলির আলোর উৎসবে মেতে উঠেছে মানুষ, ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী ঐতিহ্যের সাক্ষী থাকছে বাঁকুড়ার মন্দিরনগরী বিষ্ণুপুর। শহরের পাটরাপাড়ার রক্ষিত পরিবারে কালীপুজোর আবহেই শুরু হয়ে গেল দুর্গার আরাধনা । গত দু’শতকেরও বেশি সময় ধরে দীপান্বিতা অমাবস্যায় পারিবারিক দুর্গাপুজা শুরুর রেওয়াজই এই পরিবারে দস্তুর । তবে শুধু বোধনের সময়ের অন্তর নয়, প্রতিমাতেও রয়েছে ভিন্নতা। এখানে দেবী অসূরদলনী নয়, বরং স্বামী সন্তানদের নিয়ে এখানে প্রকৃত অর্থেই দেবী পূজিতা হন ঘরের মেয়ে মা উমা রূপে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পুজোর সূচনা হয়েছিল এক অলৌকিক স্বপ্নাদেশকে কেন্দ্র করে। প্রায় দু’শতক আগে বিষ্ণুপুরের এই রক্ষিত পরিবারের এক পূর্বপুরুষ দুর্গাপুজার পরে পুরুলিয়ার জঙ্গলে তসরের রেশমগুটি সংগ্রহ করতে যান। তসরের সন্ধানে দীর্ঘক্ষণ জঙ্গলে ঘোরাঘুরির পর ক্লান্ত হয়ে একটি গাছের নীচে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন । কথিত রয়েছে, সেই সময় স্বপ্নে দেবী দুর্গা তাঁকে দর্শন দিয়ে বিষ্ণুপুরের বাড়িতে দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করে দীপান্বিতা অমাবশ্যায় পুজো শুরুর নির্দেশ দেন। কথিত আছে ওই স্বপ্নে দেবীর সপরিবার মূর্তিও প্রত্যক্ষ করেন ওই ব্যক্তি। পরবর্তীতে পরিবারের লোক জনও তাঁতশালে দেবীর সেই সপরিবার মূর্তি দেখতে পান।
এরপর থেকেই দেবীর সপরিবার প্রতিমা তৈরি করে দীপান্বিতা অমাবশ্যায় শুরু হয় রক্ষিত পরিবারের দুর্গাপুজা। রীতি মেনে অমাবশ্যায় শুরু হয়ে এই পারিবারিক পুজো চলে পরবর্তী চারদিন। দেবী যেহেতু এই পরিবারের ঘরের মেয়ে তাই পুজো শেষ হয়ে গেলেও ভাইফোঁটার আগে বিসর্জন হয়না প্রতিমার। আত্মীয় স্বজন যারা এই পুজোতে যোগ দেন তাঁদেরও দেবীর বিসর্জনের আগে বাড়ি ফিরে যাওয়া নিয়ম বিরুদ্ধ। দু’শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও আজও সেই নিয়মের অন্যথা হয়না এতটুকুও।