বিদেশে বসে পাঞ্জাবে খুন-তোলাবাজির ছক! ইথিওপিয়া থেকে ফিরল গ্যাংস্টার

চণ্ডীগড়: আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল পাঞ্জাব পুলিশ(Gurwinder Afridi)। দীর্ঘ ১০ মাসের আন্তর্জাতিক তল্লাশি অভিযান শেষে ইথিওপিয়া থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হল কুখ্যাত গ্যাংস্টার…
চণ্ডীগড়: আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল পাঞ্জাব পুলিশ(Gurwinder Afridi)। দীর্ঘ ১০ মাসের আন্তর্জাতিক তল্লাশি অভিযান শেষে ইথিওপিয়া থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হল কুখ্যাত গ্যাংস্টার গুরবিন্দর ওরফে আফ্রিদিকে। সে ডনি বাল-প্রভ দাসুওয়াল গ্যাংয়ের অন্যতম প্রধান মাথা বলে পরিচিত।
পাঞ্জাবের মাটিতে একের পর এক খুন, তোলাবাজি এবং গুলি চালানোর মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে বিদেশে বসে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের। ‘অপারেশন শহিদ’ (Operation SHAHID) নামের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এই সাফল্য এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা এই অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পাঞ্জাব পুলিশের একাধিক বিশেষ শাখা এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা একযোগে কাজ করেছে।
আরও দেখুনঃ সংখ্যালঘুদের জন্য ৬০ দিনের আর্মি ট্রেনিং! কর্ণাটক সরকারের টেন্ডারে বিতর্ক
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঞ্জাবের সংগঠিত অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছিল। (Gurwinder Afridi)গুরবিন্দর ওরফে আফ্রিদিকে গ্রেফতারের জন্য প্রায় ১০ মাস ধরে আন্তর্জাতিক স্তরে নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অভিযানের নেতৃত্বে ছিল পাঞ্জাব পুলিশের অ্যান্টি-গ্যাংস্টার টাস্ক ফোর্স (AGTF)।
তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স বিভাগের অধীনস্থ ওভারসিজ ফিউজিটিভ ট্র্যাকিং অ্যান্ড এক্সট্রাডিশন সেল (OFTEC)। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সহযোগিতাও এই অভিযানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শেষ পর্যন্ত আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বিদেশে বসেই পাঞ্জাবের অপরাধজগতের উপর নিজের প্রভাব বজায় রেখেছিল আফ্রিদি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে বিদেশে অবস্থান করে পাঞ্জাবে একাধিক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিত।
শুধু তাই নয়, তোলাবাজির উদ্দেশ্যে গুলি চালানো এবং বিভিন্ন সংগঠিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রেও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। বিদেশে আত্মগোপন করলেও স্থানীয় অপরাধীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে নিজের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত সে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তের বিষয়।
আফ্রিদিকে ধরতে পাঞ্জাব সরকারও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল। (Gurwinder Afridi )তার সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে গ্রেফতারে সাহায্য করতে পারলে ৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল। এই পুরস্কার ঘোষণাই বুঝিয়ে দেয়, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে তাকে কতটা গুরুত্বপূর্ণ অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করছিল প্রশাসন। বিদেশে পালিয়ে থাকা গ্যাংস্টারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে পাঞ্জাব পুলিশের কাছে এই অভিযান ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আফ্রিদির সন্ধানে শুধু একটি দেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি পুলিশের তল্লাশি। এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং তার গতিবিধি অনুসরণ করা হয়েছে। একাধিক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য যাচাই করা হয়।
এই গোটা প্রক্রিয়ায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা নেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার সহায়তায় ইথিওপিয়া থেকে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সহজ হয় বলে জানিয়েছে পাঞ্জাব পুলিশ।
পাঞ্জাব পুলিশের দাবি, বিদেশে বসে অপরাধের জাল বিস্তার করা গ্যাংস্টারদের বিরুদ্ধে এই অভিযান একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। (Gurwinder Afridi)দেশের বাইরে আত্মগোপন করলেই যে অপরাধীরা আইনের নাগালের বাইরে চলে যাবে, তা নয়। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আধুনিক গোয়েন্দা ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের খুঁজে বের করে আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব। বিশেষ করে পাঞ্জাবে গত কয়েক বছরে বিদেশে বসে অপরাধ পরিচালনার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে আফ্রিদির প্রত্যাবর্তন পুলিশের কাছে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।