পাশ না ফেল, ‘রেজ়াল্ট’ আসার আগেই ১০০ বাজির দেদার বিক্রি।
তাঁদের আশঙ্কা, কালীপুজো ও দীপাবলিতে পুলিশ–প্রশাসন ও পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কড়া নজরদারি না–থাকলে নিয়মের ফাঁক গলে শব্দবাজির তাণ্ডবের পাশাপাশি বায়ুদূষণও মাত্রা ছাড়াতে পারে। এমনিতেই কালীপুজোর তিন দিন আগে, বৃহস্পতিবার রাতেই কলকাতা ও আশপাশে শব্দবাজির তাণ্ডব শুরু হয়েছে। শুক্রবার রাতে বেলেঘাটার এক ব্যক্তির ফেসবুক পোস্ট— ‘সর্বত্র শব্দবাজির কানফাটানো আওয়াজ, কানে যাচ্ছে না শুধু পুলিশের।’ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হরিদেবপুরের পৃথা দত্ত ফেসবুকে সপাট লেখেন, ‘মধ্যরাত মানে গোটা একটা তল্লাটকে সন্ত্রস্ত করার লাইসেন্স পাওয়া নয়। সদ্যোজাতদের ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা চলছে, বয়স্করা ও হৃদরোগীরা রয়েছেন এবং আছে পোষ্যরা— বাজির প্রতিটি কানফাটানো শব্দ ভয়ঙ্কর আতঙ্ক তৈরি করছে।’ পুলিশের অবশ্য বক্তব্য, নিষিদ্ধ বাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিধাননগর কমিশনারেট জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত তারা এক হাজার কেজি নিষিদ্ধ বাজি আটক করেছে, গ্রেপ্তার করেছে ২১ জনকে। তার সঙ্গেই এ বার সমস্যা তৈরি করেছে বাজি পরীক্ষার রেজ়াল্ট না–বেরনো। কোনও বাজি বায়ুদূষণ এবং শব্দদূষণের নিরিখে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করছে কি না, সেটা চূড়ান্ত হয় ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (নিরি) পরীক্ষার রিপোর্ট থেকে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি টালা পার্কে ১২০ ধরনের বাজির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে প্রথমেই ১৮ ধরনের বাজিকে বাতিল বা ফেল বলে ঘোষণা করা হয়। বাকি নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়ে নিরি-র পরীক্ষাগারে। সেই রিপোর্ট এখনও আসেনি বলে সুূত্রের খবর। প্রশ্ন উঠেছে, এ বছর কালীপুজোর আগে কেন ১০০টির বেশি বাজির পরীক্ষার রিপোর্ট এলো না? রিপোর্ট আসার আগে সেগুলো বিক্রি ও ব্যবহার করার অনুমতিই বা কেন দেওয়া হলো? পরিবেশকর্মীদের প্রশ্ন, যদি উৎসবের পরে আসা রিপোর্টে দেখা যায়, ওই ১০০টি বাজির মধ্যে বেশির ভাগই পাশ করতে পারেনি, তা হলে তার দায় কে নেবে? তবে পশ্চিমবঙ্গ বাজি শিল্প উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর মান্নার বক্তব্য, ‘যে সব বাজি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বা রিপোর্ট আসেনি বলে অভিযোগ উঠছে, সেগুলো আগেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। তার পরে ফের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যাতে কোনও ফাঁকফোকর না–থাকে।’ এই ব্যাপারে ‘সবুজ মঞ্চ’–র তরফে পরিবেশকর্মী নব দত্ত বলেন, ‘প্রতি বছর একই প্রক্রিয়া চললেও বাস্তবে পরিস্থিতির বদল হচ্ছে কোথায়? একা নিরিকে দোষ দিলে হবে না। রাজ্যের পরিবেশ দপ্তর কী করছে? এখনও কেন নাগপুরে (নিরি–র সদর দপ্তর) কেন বাজির নমুনা পাঠাতে হচ্ছে পরীক্ষার জন্য?’