মাদক চক্রে বড় ধাক্কা! অরুণাচলে ৪৫৮ একর গাঁজা চাষ ধ্বংস

অরুণাচল প্রদেশে অবৈধ মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে (Arunachal)বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের যৌথ বাহিনী। ওয়েস্ট কামেং জেলার কালাকতাং সাবডিভিশনে প্রায় ৪৫৮ একর জমিতে অবৈধভাবে…
অরুণাচল প্রদেশে অবৈধ মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে (Arunachal)বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের যৌথ বাহিনী। ওয়েস্ট কামেং জেলার কালাকতাং সাবডিভিশনে প্রায় ৪৫৮ একর জমিতে অবৈধভাবে চাষ করা গাঁজার গাছ ধ্বংস করা হয়েছে। এই অভিযানে দেড় লাখেরও বেশি কেজি গাঁজার গাছ নষ্ট করা হয়েছে। এ বছর রাজ্যজুড়ে যত জমি পরিষ্কার করা হয়েছে, তা গত বছরের পুরো বছরের তুলনায় আট গুণেরও বেশি।
অভিযানটি পরিচালনা করেছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর ইটানগর জোনাল ইউনিট। সঙ্গে ছিল সাশস্ত্র সীমা বল, সিআরপিএফ, অরুণাচল প্রদেশ পুলিশ, অ্যান্টি-নারকোটিকস টাস্ক ফোর্স এবং জেলা প্রশাসন। ২৬ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই প্রথম পর্যায়ের অভিযানে ১১৮ জন কর্মী অংশ নেন। পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় গাঁজার চাষ চলছিল মূলত কমিউনিটি ল্যান্ডে। স্যাটেলাইট ইমেজারি এবং মাঠ পর্যায়ের সমীক্ষার মাধ্যমে চাষের স্থানগুলো চিহ্নিত করা হয়।
আরও দেখুনঃ নির্বাচনের আগেই পাকিস্তান যাত্রা ভারতের মুখ্যমন্ত্রীর? মোদী সরকরের কোর্টে বল মানের
অরুণাচলের পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ গাঁজা চাষ দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে চাষিরা সহজেই লুকিয়ে চাষ করতে পারত। এই মাদক পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার হয়ে যেত। তরুণ প্রজন্মসহ অনেক মানুষ এর শিকার হত। এবারের অভিযান সেই চক্রের ওপর বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অফিসাররা জানিয়েছেন, এই অভিযান শুধু গাছ কেটে ফেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। ন্যাশনাল ভিশন ডকুমেন্ট অন নারকোটিক্স কন্ট্রোল ২০২৬-২০২৯-এর আওতায় এ ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে। রাজ্যের অন্যান্য জেলায়ও গাঁজা ও আফিম চাষের এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানেও অভিযান চালানো হবে।
স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাও এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অনেক গ্রামবাসী ও গাঁওবুড়া চাষের স্থান সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। তাঁরা বুঝতে পেরেছেন, অবৈধ চাষ দীর্ঘমেয়াদে সমাজের ক্ষতি করে। যুবকদের মাদকাসক্তি, পরিবার ভেঙে যাওয়া এবং অপরাধ বৃদ্ধির মতো সমস্যা তৈরি হয়।
অভিযানের পর মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, পাহাড়ের ঢালে সবুজ গাছের সারি আর নেই। (Arunachal)যেখানে আগে গাঁজার গাছ ঘন হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, সেখানে এখন খালি জমি। কর্মীরা ক্লান্ত হলেও সন্তুষ্ট। তাঁরা বলছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। না হলে আবার চাষ শুরু হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু ধ্বংস করাই যথেষ্ট নয়। স্থানীয় মানুষকে বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষি, পর্যটন বা অন্যান্য বৈধ পেশায় উৎসাহ দিলে অবৈধ চাষের প্রবণতা কমবে। সচেতনতা কর্মসূচিও জরুরি। স্কুল-কলেজে মাদকের ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা হলে তরুণরা সতর্ক হবে।
এই সাফল্য অরুণাচল প্রদেশের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। উত্তর-পূর্ব ভারতে মাদক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। সীমান্ত এলাকায় পাচারের সুযোগও বেশি। এবারের মতো সমন্বিত অভিযান যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে অবৈধ মাদক ব্যবসার ওপর চাপ বাড়বে।
সরকার ও প্রশাসন বলছে, অভিযান থামবে না। চিহ্নিত সব এলাকায় ধাপে ধাপে অভিযান চলবে। সাধারণ মানুষকেও অনুরোধ করা হয়েছে, সন্দেহজনক চাষ দেখলে তথ্য দিতে। মানস হেল্পলাইনে যোগাযোগ করা যায়।