নিষিদ্ধ বাজিতে ছেয়ে গেল কলকাতার বাজার, প্রশ্নের মুখে সবুজ বাজির নিয়ম - 24 Ghanta Bangla News
Home

নিষিদ্ধ বাজিতে ছেয়ে গেল কলকাতার বাজার, প্রশ্নের মুখে সবুজ বাজির নিয়ম

Spread the love


কলকাতা: পরিবেশদূষণ কমাতে সবুজ বাজির (Green Crackers) প্রচার এবং নিষিদ্ধ আতশবাজি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, সবই যেন কার্যত উপেক্ষিত কলকাতার বাজারে। শুক্রবার দুপুরে চাঁদনি চক বাজারে খোলা অবস্থায় বিক্রি হতে দেখা গেল বিভিন্ন ধরনের বাজি। শুধু তাই নয়, বাজারে থাকা একাধিক পণ্যের বৈধতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। পাঁচটি বাজির প্যাকেটের গায়ে ছাপানো প্রস্তুতকারক সংস্থার নাম ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (NEERI) অনুমোদিত তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখে তিনটি সংস্থার নাম পাওয়া যায়নি। ফলে সেগুলির বৈধতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, NEERI-র অনুমোদিত তালিকায় থাকা প্রায় ১,৭০০টি প্রস্তুতকারক সংস্থার তৈরি সবুজ বাজিই বৈধ। কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই তালিকার বাইরে অন্য কোনও সংস্থার তৈরি বাজি বিক্রি হলে তা বেআইনি। NEERI সূত্রের দাবি, অনুমোদিত সংস্থাগুলি নির্দিষ্ট পরিবেশবান্ধব ফর্মুলা মেনে বাজি তৈরি করে। প্রচলিত বাজির তুলনায় এই সবুজ বাজিতে নির্গমন প্রায় ৩০ শতাংশ কম।

কিন্তু চাঁদনি চক বাজারে শুক্রবার এমন কোনও ব্যবস্থা চোখে পড়েনি, যেখানে ক্রেতারা কিনতে আসা বাজির বৈধতা যাচাই করতে পারবেন। ফলে ক্রেতারা পছন্দমতো বাজি কিনেছেন। পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, কালীঘাট, বেহালা, কসবা-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকাতেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে।

বাজারে নিষিদ্ধ বাজি, নজরদারি কোথায়?

পরিবেশকর্মীদের আশঙ্কা, কলকাতার বাজারে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ বাজি ঢুকে পড়েছে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ সেই বাজি কিনেও ফেলেছেন। ফলে এ বার দীপাবলি ও কালীপুজোয় শব্দদূষণ এবং বায়ুদূষণ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বাজারে বাজি পৌঁছনোর আগেই পুলিশ ও প্রশাসন নিষিদ্ধ পণ্যের বিরুদ্ধে যথাযথ অভিযান চালাতে পারেনি।

পরিবেশ সংক্রান্ত সংগঠন সবুজ মঞ্চের নব দত্ত বলেন, রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ আবাসনগুলির সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছিল, বাজি বাজারে বিক্রি হওয়া বাজিই একমাত্র বৈধ। কিন্তু শহরের বিভিন্ন জায়গায় এখনও বেআইনি বাজি বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে।

তাঁর বক্তব্য, শুধু নির্দিষ্ট বাজি বাজারে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা দেখলেই হবে না। সেই বাজি অনুমোদিত প্রস্তুতকারকের তৈরি কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

বাজি শিল্পের শ্রেণিবিভাগ বদল নিয়েও প্রশ্ন

পরিবেশকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, ২০২৩ সালে বাজি শিল্পকে লাল শ্রেণি থেকে সাদা শ্রেণিতে নামিয়ে আনার পর থেকেই রাজ্যে ছোট ছোট বাজি তৈরির ইউনিট বেড়েছে। তাঁদের দাবি, এই ইউনিটগুলির অনেকেই NEERI-র নির্ধারিত সবুজ বাজির ফর্মুলা মেনে পণ্য তৈরি করে না।

এক পরিবেশকর্মীর বক্তব্য, আগে বাজি শিল্প লাল শ্রেণিতে থাকায় উৎপাদন ইউনিট খোলার জন্য লাইসেন্স পাওয়া অনেক কঠিন ছিল। কিন্তু সাদা শ্রেণিতে নিয়ে যাওয়ার ফলে কার্যত অনেকের পক্ষেই উৎপাদন ইউনিট খোলা সহজ হয়েছে। এর জেরেই বাজারে নিয়ম না মেনে তৈরি বাজির সরবরাহ বেড়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

শনিবার দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকেও পরিবেশকর্মীদের একাংশ এই বিষয়টি তুলে ধরেন।

চারটি বাজি বাজারের বাইরে বিক্রি বেআইনি

কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, শহরের নির্দিষ্ট চারটি বাজি বাজারের বাইরে বাজি বিক্রি করা বেআইনি। এই চারটি বাজার হল:

  • শহিদ মিনার ময়দান
  • টালা পার্ক
  • বেহালা ব্লাইন্ড স্কুলের মাঠ
  • ইএম বাইপাসে মেট্রো ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারির বিপরীতে নির্দিষ্ট এলাকা

পুলিশের দাবি, বাজি বিক্রির জন্য প্রায় ১৬০টি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এই লাইসেন্সগুলি ওই চারটি নির্দিষ্ট বাজি বাজারে স্টল তৈরি করা বিক্রেতাদের দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশ অনুযায়ী, দীপাবলির সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ দু’ঘণ্টা বাজি পোড়ানো যাবে। অন্য দিনে বাজি পোড়ানোও নিষিদ্ধ। ফলে নির্ধারিত সময়ের বাইরে বাজি ফাটানো নিয়মবিরুদ্ধ।

একদিকে সবুজ বাজি ব্যবহারের নির্দেশ এবং অন্যদিকে বাজারে নিষিদ্ধ আতশবাজির অবাধ বিক্রির অভিযোগ, দুইয়ের মধ্যে বড় ফাঁক সামনে এসেছে। পরিবেশকর্মীদের প্রশ্ন, উৎসবের আগে নিয়ম কার্যকর করার যথেষ্ট সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন বেআইনি বাজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করা গেল না? তাঁদের আশঙ্কা, নজরদারির এই ঘাটতির মাশুল দিতে হতে পারে শহরের পরিবেশ ও বাসিন্দাদের।

The latest news from Kolkata, including traffic updates, civic issues, weather, accidents, administrative decisions, and other important information for daily life, is published in this section. Stay tuned regularly to keep up with all the latest updates from the city.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *