অসমে ফের বুলডোজার! একদিনে উচ্ছেদ ৬৮০ মিয়া পরিবার - 24 Ghanta Bangla News
Home

অসমে ফের বুলডোজার! একদিনে উচ্ছেদ ৬৮০ মিয়া পরিবার

Spread the love


গুয়াহাটি: অসমের ধুবড়ি জেলায় সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বড় ( Eviction)ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রশাসন আলমগঞ্জ পার্ট-নাইন এলাকায় প্রায় ৬৫০ বিঘা সরকারি…

গুয়াহাটি: অসমের ধুবড়ি জেলায় সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বড় ( Eviction)ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রশাসন আলমগঞ্জ পার্ট-নাইন এলাকায় প্রায় ৬৫০ বিঘা সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে দিয়েছে। এতে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬৪০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। বেশিরভাগই বাঙালিভাষী মুসলিম পরিবার, যাদের স্থানীয়ভাবে ‘মিয়া’ বলা হয়। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জমিগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করা ছিল। আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। অনেকে নিজেরাই বাড়ি ভেঙে চলে গিয়েছিলেন। বাকিদের ক্ষেত্রে বুলডোজার লাগানো হয়। একটি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয় বলে জানা গেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, এ জমি শিল্প পার্ক তৈরির জন্য ব্যবহার করা হবে।

আরও দেখুনঃ জন্মদিনের রাতে উত্তপ্ত কালীঘাট! ‘গত ৬ মাসে ৭ বার খুনের চেষ্টা’, বিস্ফোরক অভিষেক

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই অভিযানকে সমর্থন করেছেন। ( Eviction)তিনি এক্স-এ পোস্ট করে লিখেছেন, “ধুবরিতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ সম্পন্ন। অসমের জমি তার নিজের মানুষের জন্য, দখলদারদের জন্য নয়। যারা বোঝে না, তাদের জন্য জেসিবিই গ্যারান্টিড সমাধান।” তিনি আরও বলেছেন, এই অভিযান থামবে না। প্রতি ইঞ্চি জমি উদ্ধার করা হবে।

এই পদক্ষেপকে সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জমি দখল রোধের অংশ বলে দাবি করছে। ধুবরি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে এখানে অবৈধ অভিবাসন ও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। হিমন্ত সরকার ২০২১ সাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় এ ধরনের উচ্ছেদ চালিয়ে আসছে। তাদের মতে, এটা রাজ্যের স্থানীয় মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়।

অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দাবি করছে, তারা কয়েক দশক ধরে এখানে বসবাস করছেন। অনেকে বন্যা ও ভাঙনের কারণে অন্য জায়গা থেকে এসেছেন। তারা বলছেন, যথাযথ পুনর্বাসন ছাড়াই তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্থানীয় কিছু সংগঠন এবং বিরোধীরা একে অমানবিক বলে সমালোচনা করেছেন। দিল্লিতেও এ নিয়ে প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে এ বিষয়ে কিছু রাজনৈতিক নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এর আগে অন্যান্য উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও মন্তব্য করেছিলেন। ( Eviction)তবে ধুবরির এই সাম্প্রতিক অভিযানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে শত শত মানুষের বিক্ষোভ, ভারতবিরোধী স্লোগান বা ভারতের বিরুদ্ধে হুমকির কোনো নিশ্চিত খবর এখনো পাওয়া যায়নি। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর স্বাধীন যাচাই এখনো হয়নি।

এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় জমি, পরিচয় ও অভিবাসন নিয়ে কতটা জটিল সমস্যা রয়েছে। একদিকে সরকার বলছে, আইন মেনে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, মানবিক দিক উপেক্ষা করা হচ্ছে। আদালতেও কিছু মামলা চলছে। আগামী দিনে পুনর্বাসন এবং আরও অভিযান নিয়ে নতুন করে আলোচনা হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *