Toyota Glanza V না V(O)? ৫০ হাজার টাকা বেশি দিলে কী কী সুবিধা মিলবে - 24 Ghanta Bangla News
Home

Toyota Glanza V না V(O)? ৫০ হাজার টাকা বেশি দিলে কী কী সুবিধা মিলবে

Spread the love


গুরুগ্রাম: নতুন ফেসলিফট নিয়ে ভারতে হাজির হয়েছে Toyota Glanza। গাড়িটির এক্স-শোরুম দাম শুরু ৬.৯৯ লক্ষ টাকা থেকে। মোট পাঁচটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে এই প্রিমিয়াম হ্যাচব্যাক। সেগুলি হল E, S, G, V এবং V(O)। এর মধ্যে V এবং টপ-স্পেক V(O) ভ্যারিয়েন্টের দামের পার্থক্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু অতিরিক্ত টাকা খরচ করলে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে? নাকি V ভ্যারিয়েন্টেই প্রয়োজনীয় সব ফিচার রয়েছে?

দুটি ভ্যারিয়েন্টের ডিজাইন ও অধিকাংশ ফিচার প্রায় একই। মূল পার্থক্য রয়েছে অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম (ADAS) এবং ক্রুজ কন্ট্রোল প্রযুক্তিতে। ফলে কোন ভ্যারিয়েন্ট কেনা উচিত, তা নির্ভর করবে চালকের প্রয়োজন ও বাজেটের উপর।

Toyota Glanza V ও V(O)-এর দাম

ভ্যারিয়েন্ট ১.২ লিটার পেট্রল MT ১.২ লিটার পেট্রল AMT
Glanza V ৯.৯৯ লক্ষ টাকা ১০.৫৯ লক্ষ টাকা
Glanza V(O) ১০.৪৯ লক্ষ টাকা ১০.৯৮ লক্ষ টাকা

সব দাম এক্স-শোরুম। ম্যানুয়াল সংস্করণে V ও V(O)-এর মধ্যে পার্থক্য ৫০ হাজার টাকা। AMT সংস্করণে এই ব্যবধান ৩৯ হাজার টাকা।

Glanza-র বেস E ভ্যারিয়েন্টের দাম ৬.৯৯ লক্ষ টাকা থেকে শুরু। V সিরিজের দাম শুরু ৯.৯৯ লক্ষ টাকা থেকে। অন্যদিকে, V(O) সিরিজের প্রাথমিক দাম ১০.৫৯ লক্ষ টাকা। উল্লেখযোগ্য বিষয়, V এবং V(O) কোনও ভ্যারিয়েন্টেই ফ্যাক্টরি-ফিটেড CNG বিকল্প নেই।

ডিজাইনে কোনও পার্থক্য নেই

বাইরের ডিজাইনের ক্ষেত্রে V এবং V(O) ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে কোনও পার্থক্য রাখা হয়নি। দুটিতেই রয়েছে বড় মেশ গ্রিল, গ্লস ব্ল্যাক অ্যাকসেন্ট এবং ক্রোম বর্ডার। LED DRL, LED হেডল্যাম্প এবং হেডল্যাম্পের সঙ্গে যুক্ত ক্রোম স্ট্রিপও একই।

পাশের অংশে রয়েছে ১৬ ইঞ্চির ডুয়াল-টোন অ্যালয় হুইল, ফ্রন্ট ফেন্ডারে নতুন ক্রোম ইনসার্ট, ফ্লোটিং রুফলাইন, কালো সাইড স্কার্ট এবং ক্রোম ডোর হ্যান্ডল। রয়েছে শার্ক ফিন অ্যান্টেনা ও UV-প্রোটেক্টেড গ্লাস।

পিছনের অংশেও দুটি ভ্যারিয়েন্ট দেখতে এক। C-আকৃতির LED টেলল্যাম্পের সঙ্গে রয়েছে ক্রোম স্ট্রিপ, ইন্টিগ্রেটেড রিয়ার স্পয়লার, রিয়ার ওয়াইপার এবং বাম্পারে রিফ্লেক্টর।

রঙের বিকল্প হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে Cafe White, Enticing Silver, Gaming Grey, Digital Teal Green, Insta Blue, Bluish Black এবং Sportin Red। সাতটি রঙই V ও V(O) ভ্যারিয়েন্টে উপলব্ধ।

কেবিন ও ফিচারে কী পার্থক্য?

দুটি ভ্যারিয়েন্টের কেবিনেও খুব বেশি পার্থক্য নেই। দুটিতেই রয়েছে কালো ও বেইজ রঙের ডুয়াল-টোন ইন্টেরিয়র, লেয়ার্ড ড্যাশবোর্ড এবং লেদারেট আপহোলস্ট্রি। ফ্ল্যাট-বটম স্টিয়ারিং হুইলও রয়েছে দুটিতে। তবে V(O) ভ্যারিয়েন্টের স্টিয়ারিংয়ে ADAS নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত বোতাম দেওয়া হয়েছে।

দুই ভ্যারিয়েন্টেই মিলবে ৯ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম, ওয়্যারলেস Android Auto ও Apple CarPlay, ৬-স্পিকার Clarion অডিও সিস্টেম, ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট, হেড-আপ ডিসপ্লে এবং অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল।

এ ছাড়া রয়েছে:

  • রিয়ার AC ভেন্ট
  • অটোমেটিক হেডল্যাম্প
  • স্টিয়ারিং-মাউন্টেড অডিও কন্ট্রোল
  • কী-লেস এন্ট্রি ও পুশ-বাটন স্টার্ট/স্টপ
  • ওয়্যারলেস ফোন চার্জার
  • কানেক্টেড কার প্রযুক্তি ও ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট
  • ক্রুজ কন্ট্রোল
  • ইলেকট্রিক ORVM
  • ড্রাইভার সিটের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ
  • USB Type-A ও Type-C ফাস্ট চার্জিং
  • ১২V পাওয়ার সকেট

দুটি ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে এই বিভাগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হল ক্রুজ কন্ট্রোল। V ভ্যারিয়েন্টে সাধারণ ক্রুজ কন্ট্রোল থাকলেও V(O)-তে রয়েছে Adaptive Cruise Control। অর্থাৎ সামনের গাড়ির দূরত্ব অনুযায়ী গাড়ির গতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে এই ব্যবস্থা।

নিরাপত্তায় V(O) ভ্যারিয়েন্ট এগিয়ে

নিরাপত্তার দিক থেকে V ভ্যারিয়েন্টেও যথেষ্ট ফিচার রয়েছে। দুটিতেই মিলবে ছ’টি এয়ারব্যাগ, ABS সঙ্গে EBD, ব্রেক অ্যাসিস্ট, Hill Hold Control এবং Electronic Stability Program।

এ ছাড়া রয়েছে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, সামনে ও পিছনে পার্কিং সেন্সর, অটো-ডিমিং IRVM, Tyre Pressure Monitoring System (TPMS), রিয়ার ওয়াইপার, ওয়াশার ও ডিফগার। সব আসনে থ্রি-পয়েন্ট সিটবেল্ট এবং ISOFIX চাইল্ড সিট মাউন্টও রয়েছে।

তবে V(O) ভ্যারিয়েন্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল Level-2 ADAS। এতে পাওয়া যাবে:

  • Adaptive Cruise Control
  • Lane Keep Assist
  • Lane Departure Warning
  • High Beam Assist
  • Autonomous Emergency Braking

এই প্রযুক্তিগুলি গাড়ি চালানোর সময় চালককে অতিরিক্ত সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে হাইওয়েতে দীর্ঘ যাত্রার ক্ষেত্রে Adaptive Cruise Control এবং Lane Keep Assist কাজে আসতে পারে। তবে ADAS চালকের বিকল্প নয়, সব সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ চালকের হাতেই থাকা জরুরি।

ইঞ্জিন ও মাইলেজ একই

Toyota Glanza V এবং V(O) উভয় ভ্যারিয়েন্টেই রয়েছে ১.২ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল ইঞ্জিন। এটি সর্বোচ্চ ৮৩ PS শক্তি এবং ১১২ Nm টর্ক উৎপাদন করে। সঙ্গে রয়েছে ৫-স্পিড ম্যানুয়াল এবং ৫-স্পিড AMT গিয়ারবক্সের বিকল্প।

ইঞ্জিনের বিবরণ স্পেসিফিকেশন
ইঞ্জিন ১.২ লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল
সিলিন্ডার ৩
সর্বোচ্চ শক্তি ৮৩ PS
সর্বোচ্চ টর্ক ১১২ Nm
গিয়ারবক্স ৫-স্পিড MT / ৫-স্পিড AMT
দাবি করা মাইলেজ (MT) ২৩.৮০ কিমি/লিটার
দাবি করা মাইলেজ (AMT) ২৪.৭৭ কিমি/লিটার

অর্থাৎ, V ও V(O) ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স এবং সংস্থার দাবি করা মাইলেজে কোনও পার্থক্য নেই।

V নাকি V(O), কোনটি কেনা উচিত?

যাঁরা ভালো ফিচার, আরাম এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম চান, তাঁদের জন্য Toyota Glanza V যথেষ্ট ভালো বিকল্প। কারণ এতে ইতিমধ্যেই ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, ছ’টি এয়ারব্যাগ, ভেন্টিলেটেড সিট, হেড-আপ ডিসপ্লে এবং একাধিক আধুনিক সুবিধা রয়েছে।

অন্যদিকে, যাঁরা বেশি নিরাপত্তা প্রযুক্তি চান এবং নিয়মিত হাইওয়েতে গাড়ি চালান, তাঁদের জন্য V(O) ভ্যারিয়েন্ট বিবেচনা করা যেতে পারে। অতিরিক্ত Adaptive Cruise Control এবং Level-2 ADAS এই ভ্যারিয়েন্টের প্রধান আকর্ষণ।

তবে মনে রাখতে হবে, দুটি ভ্যারিয়েন্টের ডিজাইন, ইঞ্জিন ও অধিকাংশ ফিচার একই। তাই শুধুমাত্র নতুন লুক বা বেশি মাইলেজের আশায় V(O) কেনার প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত খরচের মূল কারণ ADAS প্রযুক্তি। সেই সুবিধা প্রয়োজন হলে V(O), না হলে V ভ্যারিয়েন্টেই ভালো মূল্য পাওয়া যাবে।

Glanza-র সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছে Maruti Suzuki Baleno, Hyundai i20 এবং Tata Altroz। পাশাপাশি একই দামের আশপাশে Maruti Suzuki Swift, Tata Punch, Maruti Suzuki Fronx, Toyota Urban Cruiser Taisor এবং Hyundai Grand i10 Nios-ও বিবেচনায় রাখতে পারেন।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *