GPS-Free Missile Project: এবার কি জিপিএস-হীন মিসাইল? ভারত-রাশিয়ার যৌথ ‘মিশন’ কতদূর এগিয়েছে? | Project Krishlena: India and Russia Developing GPS Free Missile Navigation System
নয়াদিল্লি: ঠিকানা ছাড়া একটা চিঠি কিংবা পার্সেল কি কখনও একদম সঠিক গন্তব্যে, প্রাপকের কাছে পৌঁছে যেতে পারে? প্রশ্ন করবেন, তা কী করে হয়? ঠিকানা ছাড়া চিঠি পৌঁছবে কী করে? প্রেসিডেন্টস হাউসের মতো বিখ্যাত গন্তব্য হলে পুরো ঠিকানার দরকার নেই হয়তো। কিন্তু প্রেসিডেন্টস হাউসে যে চিঠি পাঠানো হচ্ছে, সেটা উল্লেখ থাকতে হবে তো। ঠিকানা লেখা থাকবে না, তবু চিঠি ঠিক সময়ে, ঠিক জায়গায় পৌঁছে যাবে। কোনও ভুলচুক হবে না। সেটা কি আদৌ সম্ভব? অসম্ভব এই মিশনেই হাত দিয়েছে ভারত এবং রাশিয়া। এই চিঠি অবশ্য মিসাইল।
দুই দেশের লক্ষ্য, এমন এক মিসাইল তৈরি করা যাতে জিপিএস থাকবে না। মিসাইলকে পথ দেখাবে অন্য কোনও ন্যাভিগেশন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, সেটা হলে প্রতিরক্ষা জগতে মাইলস্টোন তৈরি স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। চলতি মাসের শুরুতে ইন্ডিয়া- রাশিয়া ডিফেন্স সামিটে রুশ প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে এনিয়ে প্রশ্ন করা হয়। ওই রুশ বিজ্ঞানীর জবাব ছিল, বিষয়টা এখনও প্রাথমিক স্তরে। এরপরই আমেরিকা থেকে চমক দিল মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থা অ্যাটমোস। ওই সংস্থার দাবি, জিপিএস ছাড়া মিসাইল তৈরিতে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে ভারত ও রাশিয়া। ওই সংস্থার দাবি, রুশ-ভারত টপ সিক্রেট জয়েন্ট প্রজেক্টের নাম প্রজেক্ট কৃষলেনা। ভারতে কৃষ্ণা আর রাশিয়ার লেনা নদী মিলিয়ে কৃষলেনা। ব্রহ্মপুত্র আর মস্কোভা মিলে যেমন ব্রহ্মস।
অপারেশন সিদুঁরের সময় ব্রহ্মসের ক্ষমতা দেখেছে গোটা দুনিয়া। ব্রহ্মসকে ট্র্যাক করা কঠিন। তাই থামানোও সবার কম্ম নয়। আর কৃষলেনা তো সেই অর্থে কারও ধরাছোঁয়ার মধ্যেই আসবে না। কারণ জিপিএস-ই থাকবে না। জিপিএস ছাড়া মিসাইল অ্যাটাক? এই প্রিসিশন অ্যাটাকের যুগে সেটা কীভাবে সম্ভব? ওই সংস্থার দাবি, জিপিএসের বদলে নতুন মিসাইলে থাকবে ইন্টার লোকেটর ন্যাভিগেশন সিস্টেম বা আইএলএনএস। যে কোনও উন্নত মিসাইলে মূলত দুটো লোকেশন সিস্টেম থাকে। গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস এবং ইনারসিয়াল ন্যাভিগেশনব সিস্টেম বা আইএনএস। জিপিএস বিকল হলে আইএনএস অ্যাকটিভ হয়। এই লোকেশন সিস্টেমই মিসাইলকে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। আধুনিক মিলিটারি সিস্টেমে জিপিএস এখনও সবচেয়ে বড় ভরসা। তবে জিপিএসের দুর্বলতাগুলো এখনও আর গোপন নেই। রাশিয়ার মতো দেশ জিপিএসের দুর্বলতা বুঝে ফেলেছে। জার্মানি, ব্রিটেন তো সরাসরি অভিযোগ করেছে, তাঁদের বিমানের জিপিএস সিস্টেম হ্যাক করে রেখেছিল রাশিয়া।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানেন, এটাই এখন মূল অস্ত্র। জিপিএস অফ করেই যদি যুদ্ধবিমান বা যাত্রীবাহী বিমানকে ধ্বংস করা যায়, তা হলেই কিস্তিমাত। খামোকা মুখোমুখি লড়াইয়ের প্রয়োজনই নেই। ভারত ও রাশিয়া একযোগে ঠিক কী করছে? মার্কিন সংস্থাটির দাবি, ইনারসিয়াল ন্যাভিগেশনব সিস্টেমর মতোই ইন্টারলোকেটর ট্র্যাকিং সিস্টেম তৈরি করে ফেলেছে দুই দেশ। ওরা ওদের সেরা মিসাইলগুলোতে এগুলো ইনস্টল করে পরীক্ষা করবে। নতুন সিস্টেমের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক দুনিয়া এখনও কিছু জানে না। এটা মনে করিয়েই আমেরিকার মতো দেশকে সতর্ক করেছে ওই সংস্থা।
কয়েকদিন আগে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শপিং মলে সাইবার অ্যাটাক হয়েছে। শপিং মলের কুলিং সিস্টেমে, ডেটা সেন্টারে যা হচ্ছে, জিপিএসে সেটা হবে না, বলা যায় কী? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানেন, হবেই। তাই জিপিএসের বিকল্প বের করতে এত খোঁজাখুঁজি।