BSF নিগ্রহে হেফাজতে ১৮! পরিবারবর্গ কাঁদলেও ছাড় পাবেন না অভিযুক্তরা

ত্রিপুরার সিপাহিজলা জেলার আশাবাড়ি গ্রামে সীমান্তরক্ষী (BSF Attack)বাহিনীর জওয়ানদের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সমাজ মাধ্যমে…
ত্রিপুরার সিপাহিজলা জেলার আশাবাড়ি গ্রামে সীমান্তরক্ষী (BSF Attack)বাহিনীর জওয়ানদের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অভিযুক্তদের স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনদের কাঁদতে কাঁদতে দেখা যাচ্ছে। অনেকেই আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। পরিবারগুলোর কষ্ট চোখে পড়ার মতো হলেও প্রশাসন নিয়েছে কড়া পদক্ষেপ। প্রশাসন সাফ বলেছে আইন আইনের মতই চলবে।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২ নভেম্বর। (BSF Attack)কালামচৌরা থানার এলাকায় আশাবাড়ি সীমান্ত চৌকির কাছে বিএসএফ জওয়ানরা চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান চালাচ্ছিলেন। সন্দেহভাজন চোরাচালানকারীদের আটক করার চেষ্টার সময় স্থানীয় একদল লোক জড়ো হয়ে জওয়ানদের ওপর হামলা চালায়। লাঠি-বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয়। একজন সহকারী কমান্ড্যান্টসহ কয়েকজন জওয়ান আহত হন। এমনকি একজনের সার্ভিস অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও হয়। পরে অবশ্য অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।
আরও দেখুনঃ অসমে ফের বুলডোজার! একদিনে উচ্ছেদ ৬৮০ মিয়া পরিবার
এই হামলার পর পুলিশ দ্রুত তৎপর হয়। প্রথমে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তার মধ্যে তিনজন মহিলাও ছিলেন। পরে আরও আটজনকে ধরা হয়। মোট ১৮ জন এখন হেফাজতে। তাঁদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিসংক্রান্ত ধারায় মামলা হয়েছে। আদালত কয়েকজনকে বিচারিক হেফাজতে পাঠিয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে। একজন এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী কঠোর অভিযানের জেরে কিছু চক্র ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই এই হামলা। বিএসএফ জওয়ানরা সীমান্ত পাহারা দিয়ে দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করেন। তাঁদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহাও ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর হিংসা সহ্য করা হবে না। আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রেফতারদের পরিবারের সদস্যরা অবশ্য অন্য কথা বলছেন। তাঁদের অনেকেই দাবি করছেন, পরিবারের উপার্জনকারীকে তুলে নেওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। স্ত্রীরা কাঁদছেন, সন্তানরা বিভ্রান্ত। আদালতের বাইরে দাঁড়িয়ে তাঁদের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। মানবিক দিক থেকে এটা বেদনাদায়ক। কিন্তু আইন বলে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সীমান্তরক্ষীদের ওপর হামলা করলে তার পরিণতি ভোগ করতেই হবে।
এই ঘটনা ত্রিপুরার সীমান্ত এলাকার জটিল বাস্তবতাকে আবার সামনে এনেছে।(BSF Attack) বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাচালান একটি বড় সমস্যা। গাঁজাসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ দ্রব্য পাচারের চেষ্টা প্রায়ই হয়। বিএসএফ ও স্থানীয় পুলিশ মিলে অভিযান চালায়। কখনো কখনো স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এবারের ঘটনায় যেভাবে জওয়ানদের ঘিরে ফেলা হয়েছিল এবং আক্রমণ করা হয়েছিল, তা গুরুতর।
পুলিশ বলছে, তদন্তে যুক্ত সকলের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাঁকে ছাড়া হবে। কিন্তু যারা হামলায় জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাও জরুরি।