কালীর নামে প্যান কার্ড, এসেছিলেন নেতাজিও, কলকাতার এই কালী মন্দিরের গল্প জানেন?
এমন ভাবেই চলছিল দিন। এরপর একদিন বামনদাসের গুরুদেব বলেন, ‘তুমি এক কাজ করো। মায়ের মন্দিরের জন্য জমি কিনে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করো।’ গুরুর আদেশ অমান্য করা যায় না। বামনদাস ঠিক করলেন, তাই হবে। কিন্তু মূর্তি কী দিয়ে নির্মাণ করা হবে?
গুরুদেব বললেন, ‘কষ্টিপাথরের মূর্তি নির্মাণ করতে হবে।’ বললেই তো আর হলো না। কষ্টিপাথর মিলবে কোথায়? গুরুদেব বলেন, ‘চিন্তা নেই, পাথর ঠিক চলে আসবে।’
মায়ের পুজোর জোগাড় তিনি যেন নিজেই করে নেন। এই ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হলো না। হঠাৎ করেই মেলে সেই কষ্টি পাথর। বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যায়, বামনদাস স্বপ্নে নির্দেশ পেয়ে বেলুড় রাসবাড়িতে গিয়ে একটি কষ্টিপাথরের চাঁই খুঁজে বের করেন। সেই দিয়েই তৈরি হয় দক্ষিণা কালীর মূর্তি। শোনা যায়, মূর্তি নির্মাণের পর অবশিষ্ট পাথর আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
দেবীর ডান দিকে দুর্গেশ্বর শিব এবং বাঁ দিকে ক্ষেত্রশ্বর শিব প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। শোনা যায়, বামনদাস তাঁর পিতা-মাতার নামেই এই দুই শিবলিঙ্গের নামকরণ করেন।
জড়িয়ে রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের গল্প
১৯৩৮ সালে প্রথমবারের জন্য জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। সভাপতি হয়ে কলকাতায় ফিরলে, এই মন্দিরেই তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল।
দুর্গাপুজোর সময় ওই কালীমূর্তিকেই দুর্গা জ্ঞানে পুজো করা হয়। মন্দিরের পুরোহিত শুভাশিস চক্রবর্তী জানান, এই মন্দিরে সব পুজো অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়। আজও বহু মানুষ ভিড় করেন এই মন্দিরে।