কালীপুজোর আগেই কলকাতার বাতাসে দূষণের সতর্কবার্তা - 24 Ghanta Bangla News
Home

কালীপুজোর আগেই কলকাতার বাতাসে দূষণের সতর্কবার্তা

Spread the love


কলকাতা: কালীপুজো ও দীপাবলির আগে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে কলকাতার (Kolkata) বায়ুর মান। শনিবার শহরের সাতটি বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কোনওটিতেই ‘Good’ বা ‘Satisfactory’ মানের বাতাসের সন্ধান মেলেনি। এর মধ্যে যাদবপুর ও বিধাননগরের বাতাসের মান ছিল ‘Poor’ বা খারাপ। বাকি পাঁচটি কেন্দ্রে রেকর্ড হয়েছে ‘Moderate’ বা মাঝারি মানের বায়ু।

পরিবেশকর্মী ও বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, কালীপুজো ও দীপাবলিতে নির্বিচারে বাজি পোড়ানো হলে বাতাসে দূষিত কণার পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে। শীতের মরশুম এগিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের গতি কমে এবং বৃষ্টি কমে যায়। ফলে দূষিত পদার্থ বাতাসে দীর্ঘক্ষণ থেকে যায়।

যাদবপুর ও বিধাননগরে বায়ুর মান ‘Poor’

শনিবার কলকাতার সাতটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে যাদবপুর ও বিধাননগরে বায়ুর মান ছিল ‘Poor’। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (CPCB)-এর শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী, দীর্ঘক্ষণ এই ধরনের বাতাসের সংস্পর্শে থাকলে অধিকাংশ মানুষের শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নিতে অস্বস্তি হতে পারে।

অন্যদিকে, বালিগঞ্জ, ফোর্ট উইলিয়াম, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র সরোবর এবং ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধ এলাকার পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলিতে বায়ুর মান ছিল ‘Moderate’ বা মাঝারি। CPCB-র মতে, এই ধরনের বাতাসে ফুসফুসের সমস্যা, অ্যাজমা এবং হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শ্বাসকষ্ট হতে পারে। অর্থাৎ শহরের কোনও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রেই শনিবার ভালো বা সন্তোষজনক বায়ুর মান রেকর্ড হয়নি।

শীত বাড়লে কেন বাতাসে দূষণ জমে থাকে?

রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের এক বিজ্ঞানীর ব্যাখ্যা, তাপমাত্রা কমার সঙ্গে বায়ুদূষণের সম্পর্ক রয়েছে। গরমকালে ভূপৃষ্ঠের কাছের বাতাস দ্রুত উপরে উঠে যায়। ফলে বাতাসে থাকা দূষিত পদার্থও তুলনামূলক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি গ্রীষ্মকালে বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় দূষণ ছড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।

কিন্তু শীতের সময় ভূপৃষ্ঠের কাছের ঠান্ডা বাতাস গরমকালের মতো দ্রুত উপরে ওঠে না। ফলে যানবাহন, কলকারখানা এবং অন্যান্য উৎস থেকে নির্গত দূষিত পদার্থ আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই, তার মধ্যেই দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে।

ওই বিজ্ঞানীর মতে, গ্রীষ্মকালে প্রতিদিন যে পরিমাণ দূষণ তৈরি হয়, শীতেও তার পরিমাণ খুব বেশি আলাদা নাও হতে পারে। কিন্তু আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শীতকালে সেই দূষণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে না।

বাজি পোড়ালে PM2.5 ও PM10 বাড়ার আশঙ্কা

দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আধিকারিকদের আশঙ্কা, কালীপুজো ও দীপাবলিতে নির্বিচারে বাজি পোড়ানো হলে বাতাসে দূষণের পরিমাণ হঠাৎ অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। আবহাওয়ার অন্যান্য পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আগে থেকেই খারাপ থাকা বায়ুর মান আরও অবনতি হতে পারে।

এক বায়ুমান বিশেষজ্ঞের বক্তব্য, বড় এলাকায় একসঙ্গে বাজি পোড়ানো হলে বাতাসে PM10 এবং PM2.5-এর ঘনত্ব বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। এই সূক্ষ্ম কণাগুলি শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের ভিতরে প্রবেশ করে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।

এছাড়া কিছু আলোকোজ্জ্বল বাজিতে ভারী ধাতু থাকে। বাজি ফাটলে সেই ধাতুগুলিও বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে শুধু ধোঁয়া নয়, বাজি থেকে নির্গত বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ধাতব কণাও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।

শুধু বাজি নয়, দূষণের আরও একাধিক উৎস

দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সূত্রের দাবি, কলকাতার বায়ুদূষণের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের ধোঁয়া, রাস্তার ধুলো, শিল্পাঞ্চলের নির্গমন, নির্মাণকাজ এবং খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো।

Centre for Science and Environment (CSE)-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অনুমিতা রায়চৌধুরীর মতে, দূষণের উৎসেই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা জরুরি। তাঁর বক্তব্য, এই সময় থেকেই বাতাসে দূষণের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। সারা বছর দূষণ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ না নেওয়া হলে শীতকালে পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়।

কালীপুজো ও দীপাবলির আগে কলকাতার বায়ুমানের এই পরিস্থিতি তাই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজির দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যানবাহনের ধোঁয়া, ধুলো এবং অন্যান্য দূষণের উৎসগুলির উপরও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

The latest news from Kolkata, including traffic updates, civic issues, weather, accidents, administrative decisions, and other important information for daily life, is published in this section. Stay tuned regularly to keep up with all the latest updates from the city.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *