‘ইতালীয় চশমা খুলুন’, সোনিয়াকে নিশানা তরুণ চুঘের, জরুরি অবস্থা নিয়ে পাল্টা আক্রমণ

নয়াদিল্লি: ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা…
নয়াদিল্লি: ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সিদ্ধান্ত এবং সেই সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে সনিয়ার বক্তব্যের বিরোধিতা করে শনিবার তাঁকে আক্রমণ করেছে বিজেপি। শুধু জরুরি অবস্থা নয়, ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার প্রসঙ্গ টেনেও গান্ধী পরিবারকে নিশানা করেছেন বিজেপি নেতা ভান্ডারি। একই সঙ্গে সনিয়ার বিজেপি সরকার সম্পর্কে করা সমালোচনার জবাব দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ তরুণ চুঘ।
এক্স-এ একটি পোস্টে ভান্ডারি লেখেন, জরুরি অবস্থার জন্য ইন্দিরা গান্ধীর দায় অস্বীকার করা সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, সোনিয়া ওই সময়ের ঘটনাকে অন্যভাবে তুলে ধরে ইন্দিরাকে পরিস্থিতির শিকার হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছেন। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার পর রাজীব গান্ধীর ‘বড় গাছ পড়লে মাটি কাঁপে’ মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ওই বক্তব্যের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ বিজেপি নেতার।
সম্প্রতি ‘দ্য হিন্দু’-র এন রামকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জরুরি অবস্থা নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছিলেন সনিয়া। তাঁর বক্তব্য, ওই সময়ের সমস্ত অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য শুধু সঞ্জয় গান্ধীকে দায়ী করা ঠিক নয়। ইন্দিরা গান্ধীর কয়েক জন প্রবীণ সহকর্মীও তাঁর উপর চাপ তৈরি করেছিলেন। অন্যদিকে, রাজীব গান্ধী মায়ের কাছে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন অভিযোগ ও মানুষের প্রতিক্রিয়া পৌঁছে দিতেন। শেষ পর্যন্ত ইন্দিরা নিজের উপলব্ধি থেকে পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছিলেন বলেও জানান সনিয়া।
বিজেপি সাংসদ তরুণ চুঘও সনিয়ার সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতের সনাতন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বহু আক্রমণ এবং ঔপনিবেশিক শাসনের পরেও টিকে রয়েছে। অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, গান্ধী পরিবারের তিন প্রজন্ম ওই মন্দির তৈরির পথে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। সনিয়ার ইতালীয় বংশোদ্ভূত পরিচয় নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ভারত বর্তমানে ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির হার নিয়ে এগোচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে। ভারতীয় সেনাদের আত্মত্যাগ নিয়েও সনিয়ার প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন চুঘ।
অন্যদিকে, সাক্ষাৎকারে গত ১২ বছরে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সোনিয়া। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তন হলেও প্রতিষ্ঠানগুলিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় এবং রাজনৈতিক দলগুলির সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন হবে। তবে দেশের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হচ্ছে বলে আশাবাদী তিনি।
জরুরি অবস্থাকে গণতন্ত্রের উপর আঘাত হিসেবে স্বীকার করলেও সনিয়া বলেন, সেই সময় নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার সীমিত করা হয়েছিল এবং হেবিয়াস কর্পাসের অধিকার স্থগিত হয়েছিল। তবে তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই করা হয়েছিল। ইন্দিরা গান্ধীর দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি সেই সময়ের হিংসাত্মক আন্দোলন, সরকারি দফতর ও গণপরিবহণে অগ্নিসংযোগ এবং প্রশাসন ও সেনাবাহিনীকে নির্দেশ অমান্য করার আহ্বানের কথাও উল্লেখ করেন।
১৯৭৫ সালের ২৫ জুন দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সময় নাগরিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাপকভাবে সীমিত হয়। ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ জরুরি অবস্থার অবসান ঘটে। ওই বছরের মার্চে নির্বাচন ঘোষণা করে ইন্দিরা গান্ধী রাজনৈতিকভাবে জনতার রায় নেওয়ার পথ খুলে দিয়েছিলেন বলেও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন সনিয়া।
উল্লেখ্য, আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হতে চলেছে সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা ‘Belonging: A Journey Of Love’। বই প্রকাশের আগে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জরুরি অবস্থা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।