স্বাধীনতার পর প্রথম বিদ্যুৎ পৌঁছল গ্রামে! দীপাবলিতে আলোয় ভাসবে ৪০০ আদিবাসী পরিবার!

কলকাতা: হুগলি জেলার তারকেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের অষ্টরদত্তপুর (Chakdah)গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন চকদহ গ্রামে ইতিহাস তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো এই গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। প্রায় ৪০০…
কলকাতা: হুগলি জেলার তারকেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের অষ্টরদত্তপুর (Chakdah)গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন চকদহ গ্রামে ইতিহাস তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো এই গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। প্রায় ৪০০ আদিবাসী পরিবার এবার দীপাবলি উদযাপন করবে ঘরের আলোয়। দীর্ঘ অন্ধকারের পর আলোর ছোঁয়া পেয়ে গ্রামবাসীদের মুখে হাসি ফুটেছে।
চকদহ একটি পুরোপুরি আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম। এখানকার পরিবারগুলো মূলত কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। স্বাধীনতার পর থেকেই এই গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। কয়েক বছর আগে বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তার বসানো হয়নি। ফলে খুঁটি থাকলেও ঘরে আলো জ্বলেনি। শিশুদের পড়াশোনা, রাতের কাজকর্ম, এমনকি মৌলিক সুবিধাগুলোও ব্যাহত হয়েছে বছরের পর বছর।
আরও দেখুনঃ দেশ জুড়ে নারী নির্যাতনে জড়িত ১৮৭ বিধায়ক-সাংসদ! সমীক্ষায় উঠল চাঞ্চল্যকর তথ্য
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর অন্ধকারে কাটাতে হত। (Chakdah)বাচ্চারা মোমবাতি বা হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করত। রান্না, ঘরের কাজ সবকিছুই কষ্টসাধ্য হয়ে উঠত। অনেকেই বলেছেন, এতদিন পর বিদ্যুৎ পাওয়াটা স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। দিওয়ালির আগে এই আলো পৌঁছানোয় তাঁদের আনন্দ দ্বিগুণ হয়েছে। ঘরে বাল্ব জ্বলবে, ফ্যান চলবে, মোবাইল চার্জ হবে এসব সাধারণ সুবিধা এতদিন যাঁদের কাছে অসম্ভব ছিল, তাঁরা এখন সেই সুযোগ পাচ্ছেন।
বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় গ্রামবাসীদের কথা শুনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বিজয়ী হলে প্রথম কাজ হবে এই গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছানো। জেলা বিদ্যুৎ দফতরের উদ্যোগে মিটার বসানো শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০টিরও বেশি বাড়িতে নতুন মিটার বক্স লাগানো হয়েছে। একশোর বেশি পরিবারকে সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বিপিএল তালিকাভুক্ত পরিবারগুলো বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পাবে।
গ্রামবাসীদের অনেকেই দাবি করেছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিজেপিকেই সমর্থন করে আসছেন।(Chakdah) সে কারণেই আগের সরকার শুধু খুঁটি বসিয়েই ক্ষান্ত দিয়েছিল, তার আর লাগায়নি। এখন নতুন সরকারের আমলে এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। আদিবাসী পরিবারগুলো কৃষিকাজের পাশাপাশি এখন সন্ধ্যার পরও কিছু কাজ করতে পারবেন। শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়বে। রাতের নিরাপত্তাও বাড়বে।
দীপাবলি মানে আলোর উৎসব। এবার চকদহ গ্রামের আদিবাসী পরিবারগুলো সত্যিই আলোর উৎসব পালন করতে পারবেন। ঘরে ঘরে বাল্ব জ্বলবে, আনন্দ আরও রঙিন হবে। এতদিন যাঁরা অন্ধকারে দিওয়ালি কাটিয়েছেন, তাঁদের জন্য এবারের উৎসব এক নতুন অভিজ্ঞতা। অনেকেই বলছেন, এটা শুধু বিদ্যুৎ নয়, একটা নতুন জীবনের শুরু।
এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চলের উন্নয়নের গুরুত্বকে আবারও সামনে এনেছে। স্বাধীনতার এত বছর পরও কোনো গ্রাম যদি মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে, তাহলে সেটা উন্নয়নের বড় ফাঁক। চকদহ গ্রামের এই সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে যে সঠিক উদ্যোগ নিলে দীর্ঘদিনের সমস্যাও সমাধান সম্ভব। গ্রামবাসীরা এখন আশাবাদী যে ভবিষ্যতে আরও সুযোগ-সুবিধা আসবে।