বক্রেশ্বরে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন ইউনিটে বদলাচ্ছে বঙ্গের বিদ্যুৎ মানচিত্র! - 24 Ghanta Bangla News
Home

বক্রেশ্বরে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন ইউনিটে বদলাচ্ছে বঙ্গের বিদ্যুৎ মানচিত্র!

Spread the love

কলকাতা: বঙ্গের বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে(Bakreswar)। বীরভূম জেলার বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নতুন করে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু…

bakreswar-800mw-power-unit

কলকাতা: বঙ্গের বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে(Bakreswar)। বীরভূম জেলার বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নতুন করে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পে প্রায় ১০ হাজার ৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজ্যের বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেড বা ডব্লিউবিপিডিসিএল এই ষষ্ঠ ইউনিটটি গড়ে তুলবে।

বর্তমানে বক্রেশ্বর কেন্দ্রের (Bakreswar)মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১০৫০ মেগাওয়াট। নতুন ইউনিট চালু হলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ১৮৫০ মেগাওয়াটে। অর্থাৎ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে প্রায় ৭৬ শতাংশ। সুপার-ক্রিটিক্যাল বা আল্ট্রা-সুপার-ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ইউনিট তৈরি করা হবে। এ ধরনের প্রযুক্তিতে জ্বালানি ব্যবহার আরও দক্ষ হয় এবং পরিবেশের ওপর প্রভাব কিছুটা কমে। প্রকল্পটি চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

আরও দেখুনঃ স্বাধীনতার পর প্রথম বিদ্যুৎ পৌঁছল গ্রামে! দীপাবলিতে আলোয় ভাসবে ৪০০ আদিবাসী পরিবার!

এই মুহূর্তে প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন বা ইআইএ স্টাডির জন্য পরামর্শদাতা নিয়োগের কাজ চলছে। ডব্লিউবিপিডিসিএল ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে দরপত্র আহ্বান করেছে। আগ্রহী সংস্থাগুলোর আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০২৬। প্রযুক্তিগত ও আর্থিক দরপত্র মূল্যায়ন করে পরামর্শদাতা নির্বাচিত হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইআইএ স্টাডি সম্পন্ন হতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বক্রেশ্বর কেন্দ্র রাজ্যের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। (Bakreswar)শিল্প ও গৃহস্থালির চাহিদা বাড়তে থাকায় নতুন ক্ষমতা যোগ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই সম্প্রসারণ রাজ্যের বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করবে এবং স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করবে। একইসঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। নির্মাণ পর্যায়ে বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং কেন্দ্র চালু হলে দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ তৈরি হবে।

পরিবেশের দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ইআইএ স্টাডির মাধ্যমে বায়ু, জল, মাটি ও আশপাশের পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব যাচাই করা হবে। প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার পরই মূল নির্মাণ কাজ এগোবে। সুপার-ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে পুরনো প্রযুক্তির তুলনায় দূষণ কম হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগও বিবেচনায় রাখা দরকার। সঠিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্প আরও গ্রহণযোগ্য হবে।

রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ বিদ্যুৎ খাতে আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শিল্প সম্প্রসারণ, নতুন কারখানা ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রয়োজন। বক্রেশ্বরের এই নতুন ইউনিট সেই চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। চার-পাঁচ বছরের মধ্যে প্রকল্প শেষ হলে রাজ্যের বিদ্যুৎ মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *