এবার মমতাকে পুরভোটে লড়ার চ্যালেঞ্জ শমীকের
সম্প্রতি সাংবাদিককের প্রশ্নের জবাবে শুভেন্দু অধিকারীই প্রথম প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে কলকাতা পুরভোটে লড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, ‘নতুন প্রতীক নিয়ে নিজের ওয়ার্ডে ভোটে দাঁড়ান। জিতে তার পরে দিল্লি যান।’ বৃহস্পতিবার বারাসতে ‘শ্রীকৃষ্ণপুর সাংস্কৃতিক চক্র’র কালীপুজোর উদ্বোধন করেন শুভেন্দু এবং শমীক। এই পুজোর অন্যতম পৃষ্ঠপোষক হলেন সমাজসেবী সুবীর শীল। সেই অনুষ্ঠান থেকে মমতাকে কার্যত একই চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন শমীকও। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে গিয়ে প্রতিবাদ করছেন কেন! আপনি আসুন। আমাদের পাশে থাকুন। নিজের ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। আপনি ভবানীপুরে মিছিল করুন।’ তাৎপর্যপূর্ণ হলো, তখন ওই মঞ্চে শুভেন্দুও ছিলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সম্প্রতি মমতাকে পুরভোটে জিতে দেখানোর যে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, তাতে যে পার্টির পুরোপুরি সায় আছে, সেটাই এ দিন বারাসতে ‘শ্রীকৃষ্ণপুর সাংস্কৃতিক চক্র’র মঞ্চ থেকে বুঝিয়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। মমতার নিজের ওয়ার্ড বলতে কলকাতা পুরসভার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড। ২০২৬–এর বিধানসভা ভোটে ব্যাপক তৃণমূল বিরোধী হাওয়ায় নিজের ওয়ার্ডেও জয়ের মুখ দেখতে পাননি মমতা। নিজের ওয়ার্ডেও ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে চার হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিলেন তিনি। বিজেপির বিশ্বাস, বাংলায় রাজনৈতিক পালাবাদলের ছ’মাস পরেও সেই পরিস্থিতির এতটুকু পরিবর্তন হয়নি। মমতা হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে পারেননি। আর সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই শুভেন্দু–শমীকের মতো শীর্ষ বিজেপি নেতারা বারবার মমতাকে কলকাতা কর্পোরেশনের ভোটে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন বলে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের বিশ্লেষণ। এক বর্ষীয়ান বিজেপি নেতার কথায়, ‘শুভেন্দু–শমীকের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভবানীপুরের কোনও ওয়ার্ড থেকে পুরভোটে লড়বেন না, সেটা নিশ্চিত। কিন্তু সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে এই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে, এটাই মমতার জন্য যথেষ্ট বিড়ম্বনার। এখান থেকেই বোঝা যায়, মমতার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা কতটা নড়বড়ে অবস্থায় আছে।’