Bhoot Chaturdashi: কখন লাগবে ভূত চতুর্দশী? জেনে নিন প্রদীপ জ্বালানোর সঠিক সময় | Bhoot Chaturdashi 2026: Accurate Timings & Schedule According to Panjika
পুজোর মরশুম কি আর এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়? দুর্গাপুজোর ঢাকের আওয়াজ আর লক্ষ্মীপুজোর আলপনা পর্ব মিটতে না মিটতেই, আবার উৎসবের মেজাজ। দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে আলোর উৎসব, কালীপুজো। আর কালীপুজো মানেই তো ঠিক তার আগের দিন সন্ধেবেলায় বাড়ির চারপাশ চোদ্দো প্রদীপের আলোয় সাজিয়ে তোলা। মনে পড়ে ছোটবেলার কথা? অন্ধকার নামলেই বাড়ির আনাচে কানাচে প্রদীপ দেওয়ার সেই ব্যস্ততা! কখন প্রদীপ জ্বালাবেন, তিথি কখন থেকে শুরু-, এই সব নিয়েই মনের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘোরে। সকলের সুবিধার জন্য রইল বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে ভূত চতুর্দশীর একদম সঠিক সময়সূচি।
কেন জ্বালানে হয় চোদ্দো প্রদীপ?
লোকবিশ্বাস বলে, ভূত চতুর্দশীর এই বিশেষ সন্ধেতেই নাকি পূর্বপুরুষরা মর্ত্যে নেমে আসেন। ঘুটঘুটে অন্ধকারের বুক চিরে তাঁদের পথ দেখিয়ে আনতেই এই প্রদীপ জ্বালানো হয়। পরিবারের মঙ্গল আর অশুভ শক্তিকে দূরে সরিয়ে রাখতেই এই আলোর রোশনাই। পাশাপাশি দুপুরে পাতে পড়ে নিয়ম মেনে রান্না করা চোদ্দো শাক। কিন্তু এত সব আয়োজনের আসল সময়টা কখন? পঞ্জিকার পাতায় একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা কী বলছে?
এই পঞ্জিকার হিসেব বলছে, ভূত চতুর্দশীর তিথি শুরু হচ্ছে আগামী ২১ কার্তিক। ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিনটি হল ৭ নভেম্বর, শনিবার। ওই দিন ঠিক সকাল ১০টা ৪৯ মিনিট থেকে এই তিথি পড়ে যাচ্ছে। আর এই বিশেষ তিথি শেষ হবে ঠিক পরের দিন। অর্থাৎ ২২ কার্তিক, ৮ নভেম্বর, রবিবার ঠিক সকাল ১১টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত ভূত চতুর্দশীর তিথি থাকবে।
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকার সময়কাল
অন্যদিকে, বাংলার বহু বনেদি বাড়ি ও সাবেকি মণ্ডপে গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মেনে নিয়ম পালন করা হয়। এই পঞ্জিকা বলছে, ভূত চতুর্দশী শুরু হচ্ছে ২০ কার্তিক, ৭ নভেম্বর, শনিবার। তিথি শুরুর একদম নিখুঁত সময়টা হল সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড। আর এই চতুর্দশীর তিথি শেষ হবে ২১ কার্তিক, ৮ নভেম্বর, রবিবার সকাল ১০টা ৪৬ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডে।
দুটি পঞ্জিকার হিসেবে সময়ের কয়েক মিনিটের সামান্য ফারাক রয়েছে। তবে তাতে উৎসবের আনন্দে কখনও ভাঁটা পড়ে না। হিসেব অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর শনিবার বিকেল ও সন্ধেবেলাতেই মূল আচারগুলি পালন করতে হবে। তাই আর দেরি কেন? পঞ্জিকার সময় মিলিয়ে বাজার থেকে চোদ্দো শাক আর মাটির প্রদীপ আনার প্রস্তুতি এখন থেকেই সেরে ফেলুন। পরিবারের সকলের সঙ্গে মিলেমিশে উদযাপন করুন এই দিনটি। প্রদীপের স্নিগ্ধ আলোয় আপনাদের চারপাশের সব অন্ধকার চিরতরে মুছে যাক।