৪,৭০০ কোটি টাকা খরচ করেও লাভ হলো না, রিপাবলিকানের হারে চরম বেকায়দায় মাস্ক
আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতাতে বিপুল অর্থ ঢেলেছিলেন ইলন মাস্ক। কিন্তু নির্বাচনের ফল প্রকাশ্যে আসতেই একের পর এক ধাক্কা। ডেমোক্র্যাটদের কাছে পরাস্ত রিপাবলিকান শিবির। তার পরেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X থেকে রিপাবলিকানদের সমর্থনে করা একাধিক পোস্ট মুছে দিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের। শুধু রাজনৈতিক পরাজয়ই নয়, নির্বাচনের পরে টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের দর পড়ায় গত কয়েক দিনে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি। অন্য দিকে, কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় মাস্কের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং ট্রাম্প প্রশাসনে তাঁর ভূমিকা নিয়েও তদন্তের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ভোটে বিপুল অর্থ ঢেলেও হার
নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থী ও রক্ষণশীল রাজনৈতিক সংগঠনগুলির হয়ে অন্তত ৪৪৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার বেশি) খরচ করেছিলেন মাস্ক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই অঙ্ক ৪৭৪ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বলা হয়েছে। টেক্সাসের সেনেট নির্বাচনে কেন প্যাক্সটন এবং গভর্নর নির্বাচনে গ্রেগ অ্যাবটের প্রচারেও বিপুল অর্থ ঢেলেছিলেন তিনি। কিন্তু দু’জনেই হেরেছেন। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, হাউসের যে ৪৩ জন রিপাবলিকান প্রার্থীকে মাস্ক সমর্থন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে মাত্র তিনজন জয়ী হয়েছেন। সেনেটের সাতজন প্রার্থীর মধ্যে ছ’জন পরাজিত।
ভোটের দিন X-এ ‘Vote red today!’ লিখে রিপাবলিকানদের ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন মাস্ক। ২৯ অক্টোবরের একটি পোস্ট পিন করেও রেখেছিলেন। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সেই পোস্টগুলি সরিয়ে দেন তিনি। তাঁর AI চ্যাটবট Grok-ও পোস্ট মুছে ফেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পরে ব্যঙ্গ করে মাস্ক লেখেন, তাঁর ‘নির্বাচনে হস্তক্ষেপকারী মহাকাশ লেজ়ার’ এ বার কাজ করেনি!
DOGE থেকে সরকারি বরাত, তদন্তের মুখে মাস্ক?
ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় এ বার মাস্কের সরকারি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার শাসনের শুরুতে সরকারি ব্যয় কমানোর দায়িত্বে থাকা DOGE-র নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় সরকারি দপ্তরের কর্মী ছাঁটাই, খরচ কমানো এবং তথ্য ব্যবহারের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, DOGE-তে দায়িত্ব পালনের সময় মাস্কের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্তের সংঘাত তৈরি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর সংস্থাগুলির সরকারি বরাত, অনুদান এবং করছাড় নিয়েও তদন্তের দাবি উঠছে।
সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, DOGE-র দায়িত্বে থাকার চার মাসে মাস্কের সংস্থাগুলি প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের সরকারি বরাত পেয়েছিল বলে দাবি করেছে Democracy Defenders Fund। পরবর্তী সময়ে আরও অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলারের বরাত পাওয়ার কথাও নিউজ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মাস্কের যোগাযোগ এবং ইউক্রেনে স্টারলিঙ্ক পরিষেবা নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েও মার্কিন আইনপ্রণেতারা প্রশ্ন তুলতে পারেন।
৭ লক্ষ কোটি টাকা কমল সম্পদ
রাজনৈতিক ধাক্কার পাশাপাশি শেয়ারবাজারেও চাপের মুখে মাস্কের সংস্থাগুলি। নির্বাচনের পর টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের দর টানা পড়েছে। ৫ নভেম্বর টেসলার শেয়ার প্রায় ১১ শতাংশ এবং স্পেসএক্সের শেয়ার প্রায় ৯ শতাংশ কমে যায়। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেসে মাস্কের সংস্থাগুলির উপর নজরদারি বাড়তে পারে। বিশেষ করে টেক্সাসে ডেটা সেন্টার তৈরির প্রকল্প এবং টেসলা-স্পেসএক্সের সম্ভাব্য কোলাবরেশন বাধার মুখে পড়তে পারে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে শেয়ারের দরপতনে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদ প্রায় ৮০-৯০ বিলিয়ন ডলার কমেছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা। যদিও এই বিপুল ক্ষতির পরেও বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তির স্থান ধরে রেখেছেন টেসলা কর্তা।