তেজস রাজধানী এক্সপ্রেসে গাঁজা পাচারের অভিযোগ, মালদায় মাদক-সহ ধৃত তিন
রাজধানী এক্সপ্রেসে চেপেই গাঁজা পাচারের ছক! কিন্তু তা বানচাল হয়ে গেল। মালদা টাউন স্টেশনে নামতেই রেল পুলিশের জালে ধরা পড়ল দুই পুরুষ ও এক মহিলা। তাঁদের সঙ্গে থাকা ভারী প্লাস্টিকের বস্তা থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৫ কেজিরও বেশি গাঁজা। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা। এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে রেল পুলিশ।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩ নভেম্বর আনন্দ বিহার টার্মিনাল থেকে আসা ২০৫০১ নম্বর তেজস রাজধানী এক্সপ্রেস মালদা টাউন স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছয়। নিষিদ্ধ মাদক পাচার রুখতে আগে থেকেই নজরদারি চালাচ্ছিলেন আরপিএফের মালদার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ (সিআইবি) এবং মালদা টাউন জিআরপিএসের আধিকারিকেরা। সেই সময় ভারী প্লাস্টিকের বস্তা নিয়ে দ্রুত প্ল্যাটফর্ম ছাড়ার চেষ্টা করতে দেখা যায় দু’জন পুরুষ ও এক মহিলাকে। তাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা।
জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে ওই তিন জন বস্তার ভিতরে নিষিদ্ধ মাদক থাকার কথা স্বীকার করেন। এর পরে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও স্বাধীন সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো হয়। বিকেল ৫টা ২৫ মিনিট থেকে রাত ৭টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত চলে তল্লাশি। মহিলা অভিযুক্তের দেহে তল্লাশি চালান মহিলা পুলিশকর্মী। বস্তার ভিতরে থাকা প্লাস্টিকের জার থেকে মোট ২৪টি প্যাকেটে ১৫.৩৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়। প্রাথমিক পরীক্ষাতেও মাদকের উপস্থিতি মিলেছে বলে রেল পুলিশের দাবি।
ধৃতদের কাছ থেকে মাদক ছাড়াও দু’টি মোবাইল ফোন ও দু’টি ট্রেনের টিকিট বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা।
রেল পুলিশের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রাজধানী এক্সপ্রেসে চেপে তাঁরা কোথা থেকে গাঁজা নিয়ে আসছিলেন এবং কোথায় তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই পাচারচক্রের পিছনে আরও কেউ জড়িত কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মাদক পাচারের বিরুদ্ধে রেলে জ়িরো টলারেন্স নীতি মেনে নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি।